আত্মার পটভূমিতে সাফল্যের সংজ্ঞা — স্বামী চিদানন্দ গিরির সাথে একটি সাক্ষাৎকার

৮ই জুলাই, ২০২২

এই লেখাটি ওয়াইএসএস/এসআরএফ অধ্যক্ষ শ্রীশ্রী স্বামী চিদানন্দ গিরির সাথে এক সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ। ২০১৪-তে শ্রীশ্রী মৃণালিনী মাতার (তৎকালীন যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া/সেল্ফ-রিয়লাইজেশন ফেলোশিপের অধ্যক্ষ) একটি নতুন বই, দৈনন্দিন জীবনে ঐশ্বরিক চেতনার বিকাশ, মুদ্রণের পরপরই এটি ইন্টিগ্রাল য়োগা ম্যাগাজিনে প্রথম প্রকাশিত হয়। পুস্তকে বর্ণিত আধ্যাত্মিক পথ অনুসরণে সফল হওয়ার বিষয়টি ছিল সাক্ষাৎকারের মূল আলোচ্য বিষয়। ২০১৭-তে মৃণালিনী মাতার দেহাবসানের পর স্বামী চিদানন্দ গিরি ওয়াইএসএস/এসআরএফ-এর অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন।

এই সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি যোগদা সৎসঙ্গ পত্রিকা ২০২২ সংখ্যায় পড়া যাবে। (পত্রিকার গ্রাহকরা যোগদা সৎসঙ্গ অনলাইন লাইব্রেরির মাধ্যমে এই সংখ্যাটি পড়তে পারবেন। আগামী সপ্তাহগুলিতে, এই অনলাইন লাইব্রেরির মাধ্যমে পূর্ববর্তী সব সংখ্যার শত শত পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু উপলব্ধ থাকবে।)

ইন্টিগ্রাল য়োগা ম্যাগাজিন (আইওয়াইএম): সাফল্যকে আপনি কীভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন?

স্বামী চিদানন্দ গিরি (স্বা.চি): আমার মনে হয়, শ্রী মৃণালিনী মাতার নতুন বই, ম্যানিফেস্টিং ডিভাইন কনসিয়াসনেস ইন ডেইলি লাইফ শিরোনামটি একটি চমৎকার সংজ্ঞা। জীবনে এবং অবশ্যই আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে সাফল্যের অর্থ হল, আমাদের নিজস্ব ঐশ্বরিক সত্তা অর্থাৎ আত্মার অন্তর্নিহিত গুণাবলি প্রকাশ করা। 

আইওয়াইএম: কী সেই গুণাবলী?

স্বা.চি: আমরা জীবনের প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণ যে সব বিস্ময়কর গুণাবলি নিয়ে কাটাতে চাই, তা হল: প্রশান্তি, ভালোবাসা, সমমনস্কতা, শান্তি, সবরকম পরিস্থিতিতে শান্তাবস্থায় থাকার ক্ষমতা। আর সেই শান্ত কেন্দ্র থেকেই আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আসা প্রতিকূলতাকে গ্রহণ করতে সক্ষম হব। যাই ঘটুক না কেন, আমরা ঐশ্বরিক চেতনা, ঐশ্বরিক সুখ, সেবা বা ঐশ্বরিক নিঃস্বার্থ চেতনার অন্তঃসলিলা স্রোতের সাথে তাদের মুখোমুখি হওয়া শিখতে পারি। পরমহংস যোগানন্দ যেমন বলেছিলেন: “বিক্ষুব্ধ পৃথিবীর দুর্যোগের মধ্যেও নিঃশঙ্ক চিত্ত থাকার সক্ষমতা।” 

আইওয়াইএম: আমরা কীভাবে অটল থাকতে পারি?

স্বা.চি: শুরুতে, আমাদের নিজেদের এবং চারপাশের জগতের প্রতিকূলতা সম্পর্কে খুব বাস্তববাদী হতে হবে, যা এই ধরণের জীবনযাপনের পক্ষে প্রকৃত এক চ্যালেঞ্জ। তবে এটি সহজে হবার নয়। এই লড়াইয়ের সত্যকে স্বীকার করে নেওয়ার অর্থ, আধ্যাত্মিক জীবনের প্রকৃত অগ্রগতির শুরু। জীবনে সাফল্য রূপোর থালায় আমাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নয়। আধ্যাত্মিক চেতনাকে অনায়াসে বা হালকাভাবে নেওয়ার জন্যেও নয়। 

এক অর্থে, এটি সমগ্র ভগবদগীতার বার্তা, যাকে আমি সর্বশ্রেষ্ঠ যোগগ্রন্থ এবং জীবনের প্রকৃত সাফল্যের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ বলে মনে করি। গীতার বার্তা দুটি যুদ্ধরত গোষ্ঠীর গল্প। পরমহংস যোগানন্দ এর গভীর প্রতীকী অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন। যোগের দৃষ্টিকোণ থেকে গীতাকে ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছেন যে, এটি আমাদের নিজস্ব সত্তার বিভিন্ন ভাবের অন্তরদ্বন্দ্ব। আমাদের একটি অংশ সাধারণত অহংকার, স্বার্থপরতা, বিশৃঙ্খল এবং প্রেমহীন আবেগ দ্বারা পরিচালিত — আমাদের নশ্বর প্রকৃতির অন্ধকার দিক। অন্য দিকটি হল আমাদের ঐশ্বরিক সম্ভাবনা এবং ক্ষমতা যা আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে বর্তমান, যা আমাদের ঐশ্বরিক প্রকৃতির চেতনায় বাস করতে আহ্বান করে। এটি একটি দৈনন্দিন যুদ্ধ যা প্রতিদিন ঘটে যাওয়া সমস্ত কিছুর প্রতি আমাদের কর্ম, মনোভাব এবং প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করে কেবলমাত্র আত্মদর্শন, আত্ম-বিশ্লেষণ সহ প্রতিটি দিন শুরু এবং শেষ করার মাধ্যমে এই যুদ্ধ জয় করা যেতে পারে। 

তাহলে, একটা দিক হল জীবনকে একটা যুদ্ধ হিসেবে স্বীকার করা। সেখান থেকে কোথায় যাব? আমরা আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং মনোভাবের মধ্যে সেই ঐশ্বরিক গুণাবলিকে বদ্ধমূল করতে শুরু করে সেগুলোকে ঘিরে আমাদের জীবনকে আবর্তিত করার চেষ্টা করি। এটাই মৃণালিনী মাতার বইয়ের বিষয়বস্তু।

আইওয়াইএম: আমরা কীভাবে এই গুণাবলি গড়ে তুলতে পারি?

স্বা.চি: পরমহংস যোগানন্দ কীভাবে প্রতিদিন ধ্যান অনুশীলনের পরম প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছিলেন—সেই সম্পর্কে তিনি লিখেছেন। ধ্যান এমন একটি শব্দ যা ঠিক যোগের মতোই — বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহৃত হয়। যখন আপনি ধ্যানের প্রকৃত, রূপান্তরকারী শক্তি বুঝতে পারেন, তখন এটি কেবল শান্ত এবং চুপচাপ বসে সংহতি বোধের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। ধ্যান হল মন এবং আত্মার একাগ্রতা শক্তির একটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল প্রয়োগ যা আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে সুপ্ত সহজাত দেবত্বের সাথে যোগাযোগ করে এবং প্রকাশ করে।

আমাদের মানবীয় মন, হৃদয়, অনুভূতি এবং আনুষঙ্গিক আবেগ ক্রমাগত প্রতিক্রিয়াশীলতা, উত্থান-পতন, পছন্দ-অপছন্দের অবস্থায় থাকাকালীন এই অবিরাম কথাবার্তা আমরা যে ঐশ্বরিক চেতনার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি তার শান্ত গভীরতাকে ঢেকে রাখে এবং অস্পষ্ট করে দেয়। ধ্যান হল একটি সুশৃঙ্খল অনুশীলন যা আমাদের সচেতনতাকে অস্থির এবং দ্বন্দ্বপূর্ণ আবেগের স্তর অতিক্রম করে নিয়ে যায় — চেতনার আরও গভীর স্তরে, যেখানে সবকিছু নিখুঁত, যেখানে রয়েছে আলোক, দেবত্ব, প্রশান্তি এবং একটি উচ্চতর বাস্তবিক সচেতনতা।

যখন আমাদের মন এবং শক্তি কেবল উপলব্ধির ভৌত যন্ত্র, ইন্দ্রিয়গুলির মাধ্যমে কাজ করে, তখন আমরা প্রতারিত হই এবং এই ভেবে বিভ্রান্ত হই যে এই বস্তুজগৎই বাস্তব। মায়া বা ভ্রান্তি আমাদের সবচেয়ে গুরুতর এবং ভয়-উৎপন্নকারী আবেগের দিকে ঠেলে দেয়। অন্যদিকে ধ্যান — প্রাণ, জীবনীশক্তি এবং চেতনাকে বাইরের নাটকীয় ঘটনাবলি থেকে সরিয়ে নিয়ে — ধীরে ধীরে আমাদের নিজেদের মধ্যে কী আছে তা আবিষ্কার করতে সাহায্য করে, যা উত্থান-পতনের ক্ষণস্থায়ী প্রদর্শনীর চেয়ে অনেক বেশি বাস্তব এবং সারগর্ভ। তখন আমাদের অভ্যন্তরীণ জীবন আমাদের কাছে ক্ষণস্থায়ী প্রদর্শনীর চেয়ে অনেক বেশি বাস্তব হয়ে ওঠে। সেই চেতনায় বাস করার ক্ষমতাকে বোঝাতে পরমহংস যোগানন্দ “বিক্ষুব্ধ জগতের ধাক্কার মধ্যে অটলভাবে দাঁড়াতে” শেখার কথা বলেছিলেন।

স্বামী চিদানন্দ গিরির সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি আপনি যোগদা সৎসঙ্গ পত্রিকার ২০২২ সংখ্যায় পেতে পারেন। যোগদা সৎসঙ্গ, “শরীর, মন এবং আত্মার আরোগ্যকল্পে নিবেদিত” একটি পত্রিকা, প্রতি বছর প্রকাশিত হয়। মুদ্রিত সংখ্যাটি তৎসহ, পত্রিকার গ্রাহকরা যোগদা সৎসঙ্গ অনলাইন লাইব্রেরির মাধ্যমে পত্রিকার একটি ডিজিটাল সংস্করণেও প্রবেশ করতে পারবেন, যেখানে আগামী সপ্তাহে পরমহংস যোগানন্দ, অতীত ও বর্তমান ওয়াইএসএস/এসআরএফ অধ্যক্ষ এবং অন্যান্য প্রিয় লেখকদের শত শত পৃষ্ঠার উপাদান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এই শেয়ার করুন