প্রার্থনা পরিষেবা (সময়: ১৫ - ২০ মিনিট)
আধুনিক বিজ্ঞান দেখিয়েছে যে বিশ্বের সবকিছুই শক্তির সমন্বয়ে গঠিত এবং কঠিন, তরল, গ্যাস, শব্দ, এবং আলোর মধ্যে আপাত পার্থক্য তাদের কম্পনের হারের পার্থক্য মাত্র। একইভাবে, বিশ্বের সকল মহান ধর্ম বলে যে সমস্ত সৃষ্ট বস্তু ‘শব্দ’ বা ‘পবিত্র আত্মা,’ ওম বা আমেনের মহাজাগতিক স্পন্দন শক্তি থেকে উৎপন্ন। “আদিতে শব্দ ছিলেন, শব্দ ঈশ্বরের সঙ্গে ছিলেন, আর সেই শব্দই ঈশ্বর ছিলেন… তাঁর মাধ্যমেই সব কিছুর সৃষ্টি হয়েছিল এবং এর মধ্যে তাঁকে ছাড়া কোনো কিছুরই সৃষ্টি হয়নি” (জন ১:১, ৩)।
“যিনি আমেন, যিনি বিশ্বস্ত ও সত্য সাক্ষী, যিনি ঈশ্বরের সৃষ্টির উৎস তিনি এই কথা বলেন” (প্রকাশিত বাক্য ৩:১৪)। যেমন এক চলন্ত মোটরের কম্পন থেকে শব্দ উৎপন্ন হয়, সেই ভাবে সর্ববিদ্যমান ওম ধ্বনি – যা কম্পন শক্তির মাধ্যমে সমস্ত জীবন এবং সৃষ্টির প্রতিটি কণাকে পোষণ করে – নির্ভুলভাবে এই “মহাবিশ্ব-মোটর”-এর চলার সাক্ষ্য দেয়।
একাগ্রতা এবং ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে আমরা সচেতনভাবে শরীরে মহাজাগতিক শক্তির সরবরাহ বাড়াতে পারি। এই শক্তি শরীরের যে কোনো অংশে পাঠানো যেতে পারে, অথবা আঙুলের ডগার সংবেদনশীল অ্যান্টেনার মাধ্যমে পীড়িতদের জন্য – তারা হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা সত্ত্বেও – এক আরোগ্যকারী শক্তির প্রবাহে রূপান্তরিত করে আবার মহাশূন্যে মুক্ত করে দেওয়া যেতে পারে। মহান ওম স্পন্দনের মাধ্যমে আমরা সরাসরি ঈশ্বরের সর্বব্যাপী চেতনার সাথে যোগাযোগ করতে পারি – যেখানে দেশ ও কালের বিভ্রমজনক ধারণা অনুপস্থিত। এইভাবে একজন প্রার্থীর আন্তরিক প্রার্থনা এবং যারা নিম্নোক্ত উপায়ে অন্যের জন্য প্রার্থনা করছে তাদের প্রেরিত ঘনীভূত শক্তির মধ্যে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ স্থাপিত হয়।
(এটি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে করতে হবে)
চোখ বন্ধ করে প্রার্থনা করো:
-
“হে পরমপিতা, তুমি সর্বব্যাপী; তুমি বিরাজমান তোমার সকল সন্তানের মধ্যে; প্রকট করো তোমার আরোগ্যকারী উপস্থিতিকে তাদের শরীরে।” চোখ বন্ধ করে হাতের তালুদুটি মুখোমুখি রেখে দশ থেকে কুড়ি সেকেন্ড একসাথে দ্রুত ঘষো। (এই প্রক্রিয়াটি এবং পরের অনুচ্ছেদে বর্ণিত প্রক্রিয়াটি হাতে শক্তি সংগ্রহ ও অনুভব করার একটি অত্যন্ত কার্যকর উপায়।) একই সঙ্গে সুষুম্নাশীর্ষক দিয়ে যে মহাজাগতিক শক্তি তোমার শরীরে প্রবিষ্ট হয়ে বাহু ও হাতে প্রবাহিত হচ্ছে তার প্রতি গভীরভাবে মনোনিবেশ করো। নিরাময় শক্তি সেখানে জড়ো হওয়ার সাথে সাথে তুমি বাহু এবং হাতে উষ্ণতা এবং একটি চিনচিন ভাব অনুভব করবে। শরীর টানটান কোরো না, সব সময় শিথিল রাখো।
এবার, দুই হাত সামনের দিকে প্রসারিত করে ওপরের দিকে তোমার কপালের উচ্চতা পর্যন্ত তোলো এবং ওম উচ্চারণ করতে থাকো। ওম উচ্চারণ করতে করতে দুই হাত ধীরে ধীরে সামনের দিক দিয়ে শরীরের পাশ পর্যন্ত নামিয়ে আনো। এটি করার সঙ্গে সঙ্গে মনে মনে অনুভব করো যে আরোগ্যকারী কম্পন তোমার হাত থেকে বেরিয়ে যাদের আরোগ্য প্রয়োজন তাদের প্রতি প্রবাহিত হয়ে চলেছে। -
প্রার্থনা করো: “হে পরমপিতা, তুমি সর্বব্যাপী; তুমি বিরাজমান তোমার সকল সন্তানের মধ্যে; প্রকট করো তোমার আরোগ্যকারী উপস্থিতিকে তাদের মনে।” তোমার দুই হাত একে অন্যের চারিপাশে খুব দ্রুত বেগে (সামনের দিকে) ঘোরাও। তোমার দুই হাত অচিরেই মহাজাগতিক শক্তিতে ভরে উঠবে। সুষুম্নাশীর্ষক দিয়ে প্রবিষ্ট হয়ে যে মহাজাগতিক শক্তি হাতে প্রবাহিত হচ্ছে তার প্রতি মনোনিবেশ করো। দশ থেকে কুড়ি সেকেন্ড পর্যন্ত হাত ঘোরাতে থাকো।
এবার দুই হাত সামনের দিকে প্রসারিত করে ওপরের দিকে তোমার কপালের উচ্চতা পর্যন্ত তোলো এবং ওম উচ্চারণ করতে থাকো। যাদের জন্য প্রার্থনা করছ তাদের দিকে তোমার হাত থেকে আরোগ্যকারী কম্পন প্রবাহিত হয়ে চলেছে মনশ্চক্ষে এরকম দেখতে দেখতে প্রসারিত হাত দুটি ধীরে ধীরে নামিয়ে আনো। - প্রার্থনা করো: “হে পরমপিতা, তুমি সর্বব্যাপী; তুমি বিরাজমান তোমার সকল সন্তানের মধ্যে; প্রকট করো তোমার আরোগ্যকারী উপস্থিতিকে তাদের আত্মায়।” (ওপরে প্রথম প্রার্থনায় বর্ণিত দুই হাত ঘষার এবং ওম উচ্চারণ করার পদ্ধতিটি পুনরাবৃত্তি করো।)
- দুই হাত ওপরে তুলে আরও একবার ওম উচ্চারণ করে শান্তি ও সম্প্রীতির আরোগ্যকারী স্পন্দন সারা বিশ্বে পাঠাও।
ঘরে বসে প্রার্থনা পরিষেবার পরিচালনা
যারা কোনো দলবদ্ধ প্রার্থনাচক্রে যোগদান করতে অসমর্থ, তারা বাড়িতে নিজে অথবা পরিবারের লোকজনের সাথে ওপরে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রার্থনা পরিষেবা পরিচালনা করতে পারেন। ইচ্ছা করলে এটিকে নিত্যকার সকাল বা সন্ধ্যার ধ্যানাভ্যাসের অঙ্গ করে নেওয়া যেতে পারে। (যদি সম্ভব হয়, সর্বদা একটি নির্দিষ্ট ঘরে বা ঘরের নির্দিষ্ট অংশে প্রার্থনা পরিষেবা সম্পন্ন করা ভালো যে জায়গাটি সাধারণত এই উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হয়; তাহলে ঈশ্বরের ওপর একাগ্রতা এবং প্রেমপূর্ণ মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা সহজ হবে।)
অনেক পরিবারই এটি খেয়াল করেছেন যে অন্যের জন্য এবং পৃথিবীতে শান্তির জন্য প্রার্থনা করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হওয়া – এমনকি বন্ধুদের এবং পাড়ার অন্যদেরও ডেকে নেওয়া – নিজের বাড়ি এবং বৃহত্তর সমাজের মধ্যে এক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির ভাব নিয়ে আসতে প্রচুর সাহায্য করে।
ধন্য তারা যারা অন্যদের জন্য প্রার্থনা করে, কারণ এটি করার মাধ্যমে তারা সমস্ত জীবনের ঐক্য সম্পর্কে সচেতন হয়। আমরা প্রতিকূলতার শক্তির বিরুদ্ধে একাকী সংগ্রামরত বিচ্ছিন্ন সত্তা নই। আমাদের সুখ সকলের সুখের সাথে জড়িত; সকলের কল্যাণের মধ্যেই আমাদের সর্বোচ্চ পরিপূর্ণতা নিহিত। আপনারা যারা এই সত্যটি উপলব্ধি করেছেন এবং বিশ্বব্যাপী প্রার্থনাচক্রে অংশগ্রহণ করে আপনাদের সময় এবং সহানুভূতি দিয়েছেন, তাদের আমরা আমাদের গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। মানবতার জন্য এই ধরণের নিঃস্বার্থ সেবার মাধ্যমে, আপনারা যেন ঈশ্বরের নিত্য সুরক্ষা এবং সম্পূর্ণ পরিতৃপ্তিদায়ী ভালোবাসা সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন।
— যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অফ ইণ্ডিয়া
প্রার্থনার জন্য অনুরোধ
নিজের বা অন্যদের জন্য প্রার্থনার অনুরোধ সবসময়ই সাদরে গৃহীত হয়, এবং প্রার্থনা পরিষদের সদস্যরা সেগুলির প্রতি অবিলম্বে প্রেমপূর্ণ মনোযোগ দিয়ে থাকেন। অনুরোধ অনলাইনে, ফোনে বা চিঠির মাধ্যমে যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অফ ইণ্ডিয়ার কাছে জমা দেওয়া যেতে পারে। যাদের নাম জমা দেওয়া হয়েছে তাদের তিন মাস ধরে সকাল এবং সন্ধ্যার বিশেষ নিরাময় পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই প্রার্থনা পরিষেবার নিরাময় ক্ষমতা থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য তাদের সেখানে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই।
প্রার্থনার সমস্ত অনুরোধ বিশ্বস্তভাবে গোপন রাখা হয়। অনুরোধটির সঙ্গে সমস্যার বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন নেই, যদি না কেউ তা বর্ণনা করতে চান। প্রার্থনা পরিষদ এবং বিশ্বব্যাপী প্রার্থনাচক্রের জন্য যার নিরাময়ের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করা হচ্ছে কেবল মাত্র তার নামটির প্রয়োজন। যদি প্রার্থনাচক্রর সদস্যদের কেউ কেউ সমস্যাটির বিবরণ জানেন তাহলে যেন তারা এই নিয়ে আলোচনা না করেন। অন্যথা নেতিবাচক মানসিক সম্বন্ধ প্রার্থনার শক্তিকে দুর্বল করতে পারে। পরিবর্তে দলের সদস্যদের কেবলমাত্র ঈশ্বরের নিরাময় ক্ষমতার ওপর এবং সমস্ত অসংগতিপূর্ণ অবস্থা প্রতিস্থাপনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ অবস্থার ওপর মনোনিবেশ করা উচিত।
















