এই ব্লগ পোস্টটি স্বামী চিদানন্দ গিরি-র “যম ও নিয়ম: অন্তরের শক্তি ও মুক্তির জন্য ‘সম্যক জীবনযাপন’” শীর্ষক আলোচনা থেকে নেওয়া একটি নির্বাচিত অংশ, যা ২০১৫-তে যোগদা সৎসঙ্গ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। পত্রিকার গ্রাহকরা পূর্ববর্তী নিবন্ধগুলির সুবিশাল অনলাইন গ্রন্থাগারে এই আলোচনার সম্পূর্ণ লিখিত রূপটি খুঁজে পেতে পারেন। স্বামী চিদানন্দজি ২০১৭-তে ওয়াইএসএস/এসআরএফ-এর অধ্যক্ষ হয়েছিলেন।
যোগসূত্র থেকে যম ও নিয়মের প্রতি আত্মার স্বাগত প্রতিক্রিয়া
সেই প্রাচীন যোগশাস্ত্র, মহর্ষি পতঞ্জলির যোগসূত্রে যম ও নিয়মের নীতিসমূহ বিবৃত হয়েছে; এগুলি ভারতের আধ্যাত্মিক সভ্যতার উচ্চতর যুগ থেকে আমাদের কাছে এসেছে।
যম:
- অহিংসা (কাউকে আঘাত না করা);
- সত্য (সত্যবাদিতা);
- অস্তেয় (চুরি না করা);
- অপরিগ্রহ (লোভহীনতা, বস্তুসুখে আসক্ত না হওয়া);
- ব্রহ্মচর্য (শরীরের সৃজনশক্তির উপর নিয়ন্ত্রণ)।
- শৌচ (দেহ ও মনকে পবিত্র রাখা);
- সন্তোষ (সব পরিস্থিতিতে তৃপ্ত, শান্ত ও সমমনোভাবাপন্ন থাকা);
- তপস (আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা);
- স্বাধ্যায় ( আত্মসমীক্ষা সহ শাস্ত্রপাঠ);
- এবং শেষ ঈশ্বর-প্রণিধান (ঈশ্বর ও গুরুর প্রতি সমর্পণ)।
এই গুণগুলির নামমাত্র শুনে তোমার অন্তরে কি প্রতিক্রিয়া হয় তা মনে রাখো, আমাদের মধ্যে এই গুণ যদি আদৌ জাগরিত থাকে ফিসফিসিয়ে বলো: “হ্যাঁ! এটাই আমি চাই। এই তো আমি!” এই ধরণের আত্মিক সাড়া থেকে আমরা জানতে পারি যে এই নিয়মগুলির মাঝে কী বিপুল ইতিবাচক মূল্য নিহিত আছে।
আমরা অসীম শক্তি, মহত্ত্ব এবং মহিমার অধিকারী সত্তা। আর প্রতিটি আধ্যাত্মিক নিয়ম এক একটি দ্বার, এক একটি সুযোগ, যা আমাদের এই দিব্য স্বরূপের বিশেষ দিকগুলি উপলব্ধি করতে সাহায্য করে, যা সাধারণত মায়ার আবরণে ঢাকা থাকে এবং যতদিন আমরা দেহ, অহং, ও পার্থিব জগতের প্রতি আসক্ত থাকি, ততদিন বিস্মৃত অবস্থায় থাকে।
আধ্যাত্মিক নিয়মের উদ্দেশ্য সীমাবদ্ধ করা নয় বরং ক্ষমতাশালী করা
আমাদের গুরু, পরমহংস যোগানন্দ, দশ আজ্ঞা সম্পর্কে বলেছিলেন — যা আবার এই সার্বজনীন নিয়মগুলি প্রণয়ন করার আর এক উপায়:
“দশ আজ্ঞা-র নাম যদি শাশ্বত সুখের দশটি নিয়ম রাখা হোত, তবে হয়ত আরও বেশি যথার্থ হোত। ‘আজ্ঞা’ শব্দটি দুর্ভাগ্যজনক একটি বিকল্প, কারণ খুব কম লোকই আদেশ পছন্দ করে। যখনই তুমি কোনো শিশুকে কিছু করতে বারণ করো, সে ঠিক তখনই তা করতে চায়…। অথচ এই দশ আজ্ঞার লঙ্ঘনই পৃথিবীর সমস্ত দুঃখের মূল।”
আধুনিক, মিডিয়া-চালিত সমাজ আমাদের যেভাবে অভ্যস্ত করিয়ে দিতে চেষ্টা করছে, তার প্রভাবে অনেকে “পুরোনো ধাঁচের নৈতিকতা”-কে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে।
যাইহোক, আধ্যাত্মিক পথের অন্যান্য অনেক দিকের মতো, আমাদের গুরু নৈতিকতা সম্পর্কিত ধারণাকে সম্পূর্ণভাবে বিপ্লবী রূপ দিয়েছেন। তিনি মূলত বলেছিলেন যে, নৈতিকতা হল জগতে এমনভাবে জীবনযাপন করার উপায়, যাতে আমাদের সেই দিব্য সংযোগ বজায় থাকে — যা আমরা প্রকৃতপক্ষে, সেই দিব্য সত্তার সঙ্গে আমাদের যোগসূত্র অটুট থাকে।

















