যখনই কেউ ভক্তিভরে বাবাজির নাম উচ্চারণ করে, সঙ্গে সঙ্গে সেই ভক্তের উপর বাবাজির আধ্যাত্মিক আশীর্বাদ বর্ষিত হয়।
— যোগী-কথামৃত-তে লাহিড়ী মহাশয়
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্বের দৃষ্টির অন্তরালে থাকা ক্রিয়াযোগের প্রাচীন বিজ্ঞান ঊনবিংশ শতাব্দীতে অমর অবতার, মহাবতার বাবাজি পুনরুজ্জীবিত করেন, পরমহংস যোগানন্দ তাঁর যোগী-কথামৃত গ্রন্থে যেমনটি বলেছেন। বাবাজি তাঁর শিষ্য লাহিড়ী মহাশয়কে ক্রিয়াযোগে দীক্ষা প্রদান করে মানবজাতিকে পুনরায় এক মহান আধ্যাত্মিক পরম্পরার সঙ্গে যুক্ত করেন, যার সূত্রপাত ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছ থেকে এবং যা পতঞ্জলিসহ বহু মহান আধ্যাত্মিক মহাপুরুষের দ্বারা অনুশীলিত হয়েছে।
১৯২০-র ২৫ জুলাই, পরমহংস যোগানন্দ যখন ক্রিয়াযোগের শিক্ষা পাশ্চাত্যে প্রচার করার উদ্দেশ্যে আমেরিকা যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন যাত্রার ঠিক আগে তিনি কলকাতার নিজের বাসভবনে গভীর প্রার্থনায় নিমগ্ন হয়ে তাঁর আসন্ন প্রচারের জন্য ঈশ্বরীয় আশ্বাস প্রার্থনা করছিলেন। সেই সময় মহাবতার বাবাজি তাঁর সামনে আবির্ভূত হয়ে বললেন: “তুমি গুরুর আজ্ঞা শিরোধার্য করে আমেরিকা যাও। ভয় কোরো না; ঈশ্বরই সর্বদা তোমায় রক্ষা করবেন। তোমাকেই আমি পশ্চিমে ক্রিয়াযোগের বাণী প্রচার করবার জন্য নির্বাচিত করেছি।”
মহাবতার বাবাজি ও পরমহংস যোগানন্দজির এই ঐতিহাসিক সাক্ষাতের স্মরণে ওয়াইএসএস ও এসআরএফ-এর ভক্তগণ প্রতি বছর মহাবতার বাবাজি স্মৃতি দিবস পালন করেন।
এই পবিত্র উপলক্ষ্য উদযাপনে জুলাই মাসে আয়োজিত নিম্নলিখিত অনুষ্ঠানে আপনাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই:
অমর ক্রিয়াযোগ গুরু: মহাবতার বাবাজি
পরমহংস যোগানন্দ রচিত বিশ্ববিখ্যাত আধ্যাত্মিক গ্রন্থ যোগী-কথামৃত-তে উল্লিখিত রহস্যময় যোগী মহাবতার বাবাজি কে? উত্তর হিমালয়ের বদরিনারায়ণের নিকটবর্তী দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থানকারী এক অমর মহাগুরু মহাবতার (মহান অবতার) বাবাজিকে, এক দিব্য অবতার রূপে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি জন্ম-মৃত্যুর পুনরাবর্তনের চক্র সম্পূর্ণরূপে অতিক্রম করেছেন এবং সহস্রাব্দ ধরে মানবজাতির আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য এক উজ্জ্বল, চিরযৌবনময় শারীরিক রূপ ধারণ করে আছেন। যাঁরা বাবাজির দর্শন লাভ করেছেন, তাঁরা বলেন যে তাঁর স্বভাব বিশুদ্ধ প্রেমময় এবং বিনয় তাঁর প্রধান বৈশিষ্ট্য। শ্রদ্ধার সঙ্গে শুধু তাঁর পবিত্র নাম উচ্চারণ করলেও তৎক্ষণাৎ এক দিব্য আশীর্বাদ লাভ হয় বলে বলা হয়।
আমরা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাই যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অব ইন্ডিয়া (ওয়াইএসএস)-এর সন্ন্যাসীদের দ্বারা ইংরেজি, হিন্দি, বাংলা, কন্নড়, তামিল ও তেলুগু ভাষায় প্রদত্ত বক্তৃতার মাধ্যমে মহাবতার বাবাজি সম্পর্কে আরও জানার জন্য।
এই বক্তৃতাগুলির মাধ্যমে জানুন কীভাবে ঈশ্বর-সাক্ষাৎকারের পবিত্র ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ক্রিয়াযোগ এক অবিচ্ছিন্ন গুরু-শিষ্য পরম্পরার মাধ্যমে প্রবাহিত হয়েছে—মহাবতার বাবাজি থেকে লাহিড়ী মহাশয়, পরবর্তীকালে লাহিড়ী মহাশয় থেকে স্বামী শ্রীযুক্তেশ্বর এবং পরিশেষে পরমহংস যোগানন্দজির কাছে পৌঁছেছে। ১৯২০-তে বাবাজি ব্যক্তিগতভাবে পরমহংস যোগানন্দজিকে এই শিক্ষা পাশ্চাত্যে প্রচারের জন্য দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন।
এই বক্তৃতাগুলি পরবর্তীতে দেখার জন্য উপলব্ধ থাকবে।
অমর ক্রিয়াযোগ গুরু: মহাবতার বাবাজি
1:07:34
1:14:14
53:59
54:07
58:58
1:07:20
অনলাইন স্মারক ধ্যান
শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
সকাল ৬:৩০ – ৮:০০ (ভারতীয় মান সময়)
২৫ জুলাই, মহাবতার বাবাজির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে ওয়াইএসএস-এর একজন সন্ন্যাসীর পরিচালনায় একটি বিশেষ অনলাইন ধ্যানের আয়োজন করা হবে। এতে থাকবে ভক্তিগীতি, ধ্যান এবং অনুপ্রেরণামূলক পাঠ।
অনুগ্রহ করে লক্ষ্য করুন: এই অনুষ্ঠানটি ২৬ জুলাই, রবিবার, রাত ১০টা (ভারতীয় মান সময়) পর্যন্ত দেখার জন্য উপলব্ধ থাকবে।
ব্যক্তিগত উপস্থিতির অনুষ্ঠান
মহাবতার বাবাজির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে ওয়াইএসএস-এর আশ্রম, কেন্দ্র ও মণ্ডলীতেও বিশেষ ব্যক্তিগত উপস্থিতির অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এই অনুষ্ঠানগুলির বিষয়ে আরও জানতে এবং অংশগ্রহণ করতে, অনুগ্রহ করে আপনার নিকটবর্তী ধ্যানকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
এই পবিত্র উপলক্ষ্যে, ভক্তবৃন্দ ওয়াইএসএস/এসআরএফ গুরু-পরম্পরা-র মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া ক্রিয়াযোগের পথের আশীর্বাদের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রণামী নিবেদনের মাধ্যমে। আপনি যদি আন্তরিক ঈশ্বরসন্ধানীদের কাছে আত্মমুক্তিদায়ক এই শিক্ষাগুলি পৌঁছে দেওয়ার ওয়াইএসএস-এর সেবাকার্যে অবদান রাখতে চান, তবে নীচে প্রদত্ত লিঙ্কের মাধ্যমে তা করতে আমরা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাই।
















