অবর্ণনীয় এক আধ্যাত্মিক সান্নিধ্য: তরুণ সাধক সঙ্গম, সেপ্টেম্বর ২০২৫

২২ নভেম্বর, ২০২৫

২০২৫-এর ১০-১৪ সেপ্টেম্বর যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া (ওয়াইএসএস ) তাদের রাঁচি আশ্রমে প্রথম তরুণ সাধক সঙ্গম এর আয়োজন করে। ২৩-৩৫ বছরের বয়সী ২০০ জনেরও বেশি তরুণ সাধক পাঁচ দিনের এই কর্মশালায় যোগ দিয়েছিলেন। এখানে ধ্যান, সেবা এবং পারস্পরিক সাহচর্যের মাধ্যমে ঈশ্বর ও গুরুর সাথে তাঁদের আত্মিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

সঙ্গমটি ছিল সর্বতোভাবে পরিপূর্ণ এবং উদ্দীপ্তকারী এক অনুষ্ঠান। এখানে ঈশ্বর ও গুরুগণের অমূল্য সান্নিধ্যে থাকার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছিল... আবার নিজেদের গুরুদেবের দিব্য পরিবারের সদস্য মনে করে পরস্পরের মধ্যে তৎক্ষণাৎ এক চিরস্থায়ী আত্মিক বন্ধনও অনুভব করেছি।

— এস. এম., পশ্চিমবঙ্গ

তরুণ সাধকগণ ওয়াইএসএস রাঁচি আশ্রমে সমবেত হয়েছিলেন — যেন তারা গুরুদেবের প্রেমের বন্ধনে এক দিব্য পরিবার।

সঙ্গম উদ্বোধনের আবহ তৈরি

তরুণ সাধকরা আশ্রমে এলে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের পর্ব দিয়ে সঙ্গমের কাজ শুরু হল, সৎসঙ্গের মাধ্যমে তাদের উন্মুক্ত হৃদয়ে মনকে একাগ্র করতে উৎসাহিত করা হয়। পরমহংস যোগানন্দের স্মৃতি বিজড়িত স্পন্দনে পূর্ণ রাঁচি আশ্রমের এই নির্দেশিত সফর স্বাভাবিক ভাবেই তরুণ সাধকদের গুরুদেবের দিব্য পরিবারে আকৃষ্ট করে সৃষ্টি করেছিল এক শ্রদ্ধা মিশ্রিত আধ্যাত্মিক সাহচর্যের পরিবেশ।

রাঁচিতে অনুষ্ঠিত তরুণ সাধক সঙ্গম ছিল ভাষায় প্রকাশের বাইরে — আমার জীবনের সবচেয়ে আশীর্বাদপূর্ণ অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি। অন্যান্য সঙ্গমে আমরা গুরুদেবের শিক্ষা অনুশীলন করার জন্য অনুপ্রাণিত বোধ করি, কিন্তু এবার আমরা বাস্তবে সেগুলি পালন করেছি। আমি গুরুদেবের উপস্থিতি অতি প্রবলভাবে অনুভব করেছি, এবং শেষ পর্যন্ত, প্রত্যকের ভেতরে এসেছিল গভীর কিছু পরিবর্তন...

— এ.এ., উত্তরপ্রদেশ

উদ্বোধনী সৎসঙ্গ অংশগ্রহণকারীদের মানসিক চাঞ্চল্য দূরে সরিয়ে দিয়ে উন্মুক্ত হৃদয়ে সঙ্গমে প্রবেশের আমন্ত্রণ জানায়।
সঙ্গম শুরু হওয়ার সাথে সাথে সভাকক্ষটি শ্রদ্ধার ভাবে ভরে ওঠে।

এক সংহতি সম্পন্ন দৈনন্দিন কর্মসূচী

সঙ্গমের মূল ভিত্তি ছিল বিশেষ যত্ন সহকারে প্রস্তুত সংহতি সম্পন্ন এক সময়সূচী। সঙ্গমে প্রবহমান ছিল সুসমন্বিত ছন্দে অভ্যন্তরীণ নীরবতা ও বাহ্যিক জগতের কর্মকাণ্ড। প্রতিদিনের সূচীতে শক্তিসঞ্চার ব্যয়াম, ধ্যান, অধ্যয়ন, আধ্যাত্মিক সাহচর্য এবং বিনোদনের একটি সুচিন্তিত সমন্বয়। আবার রাত ১০টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত নীরবতা প্রত্যেককে অন্তর্মুখী করে দিত।

কর্মসূচীটি ছিল অত্যন্ত সুনিপুণভাবে পরিকল্পিত, যেখানে আধ্যাত্মিক গভীরতা, ব্যবহারিক জ্ঞান ও আনন্দময় পারস্পরিক সাহচর্য অপূর্বভাবে মিলিত হয়েছিল। প্রতিটি অধিবেশন, ধ্যান এবং পারস্পরিক সংযোগ যেন অন্তর্দৃষ্টির স্বচ্ছতা ও অন্তরের শান্তির পথে এক একটি অগ্রসর পদক্ষেপ ছিল। সমগ্র অভিজ্ঞতাটি ছিল একদিকে রূপান্তরকারী, অন্যদিকে গভীর অনুপ্রেরণাদায়ক...

— ডি. আর., উত্তর প্রদেশ

সাধকরা প্রতিদিন ধ্যানের জন্য শরীর ও মনকে সচেতন করতে শক্তিসঞ্চার ব্যায়াম দিয়ে শুরু করতেন।
সমবেত ধ্যান সকলের অন্তরে অভ্যন্তরীণ স্থিরতার একটি যৌথ ছন্দ গড়ে তুলেছিল।
নিশ্চলতা ও নীরবতার মধ্যে তরুণ সাধকেরা ঈশ্বর ও গুরুগণের সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করে নিয়েছিল।
ছোট ছোট অধ্যয়ন গোষ্ঠীগুলি ব্যবহারিক জীবনে ওয়াইএসএস পাঠমালা এবং তাদের দৈনন্দিন প্রয়োগের প্রতিফলনকে উৎসাহিত করেছিল।
সমবেত অধ্যয়নের পর তরুণ সাধকেরা নীরবে গুরুদেবের বাণীতে আত্মস্থ হতে থাকে।

দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে সমমনস্ক সাধকগণ একই ঐশ্বরিক অভিপ্রায় নিয়ে একত্রিত হয়েছিলেন। এই আধ্যাত্মিক সম্মেলন ছিল হৃদয়গ্রাহী এবং অনুপ্রেরণাদায়ক। সান্ধ্যকালীন খেলাধুলায় দ্রুত আমাদের মধ্যে এমন বন্ধুত্ব গড়ে ওঠেছিল, যা তৈরি হতে হয়ত অনেক বেশি সময় লাগত। দল এবং দলনেতার ধারণাটি বিশেষভাবে অর্থবহ ছিল, কারণ এটি আমাদের এই পবিত্র পথে একে অপরের কাছ থেকে শোনার, জানার ও শেখার সুযোগ করে দিয়েছিল।

— এস. আর., অন্ধ্র প্রদেশ

সান্ধ্যকালীন বিনোদন সকলের মধ্যে সৌহার্দ্য ও একাত্মতার আবহ নিয়ে এসেছিল।
কেউ কেউ যখন খেলায় ব্যস্ত, অন্যরা তখন যোগধ্যানে শরীর ও মনের সমন্বয করে অন্তর্মুখী হতেন।

সম্যক জীবনযাপন-এর কর্মশালা

আলোচনা ভিত্তিক কর্মশালা আধুনিক জীবনের বাস্তব প্রতিকূলতার মোকাবিলায় তরুণ সাধকদের গুরুদেবের জ্ঞান ব্যবহারিকভাবে কাজে লাগানোর পথ দেখিয়েছে। “জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ” এবং “সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাপন” শীর্ষক অধিবেশনে জীবনযাত্রার অগ্রাধিকার, প্রতিকূলতার ও সংকটসমূহ সব সময় ঈশ্বরের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে পারদর্শীতার সঙ্গে জুঝবার জন্য স্পষ্টতা ও আত্মবিশ্বাস প্রদান করেছিল।

সঙ্গমটি ছিল সত্যিই মনোমুগ্ধকর। কর্মশালাটি অংশগ্রহণকারীদের বয়সের বিষয়টি সুচিন্তিতভাবে বিবেচনা করে পরিকল্পিত হয়েছিল। আলোচিত বিষয়বস্তু এবং অতীব তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত সহকারে ব্যবহারিক পরামর্শের মাধ্যমে শেখানো নানা কৌশল সমগ্র অভিজ্ঞতাটিকে গভীরভাবে আকর্ষণীয় ও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছিল।

— এস. এম., মহারাষ্ট্র

গুরুদেবের জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে কর্মশালার উন্মুক্ত আলোচনা ও সহপাঠীভিত্তিক পারস্পরিক শিক্ষাকে উৎসাহিত করেছে।

ছোট ছোট গোষ্ঠীর ভাবনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এক উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করেছিল এবং গুরুদেবের শিক্ষার ব্যবহারিক প্রয়োগে সচেষ্ট ছিল।

ওয়াইএসএস-এর সন্ন্যাসী দ্বারা পরিচালিত “সম্যক জীবনযাপন" কর্মশালা একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপনের বিষয়ে স্পষ্টতা প্রদান করেছে।
ব্যবহারিক অনুশীলন এবং আত্মচিন্তা-সহায়ক নির্দেশিকা অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের সিদ্ধান্ত ও সুষম জীবনযাপন সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবতে সহায়তা করেছে।

গভীরতর সাধনার অনুশীলন

সঙ্গমটি শক্তিসঞ্চার ব্যায়াম, হং-স এবং ওম প্রক্রিয়ার উপর বিশেষ পর্যালোচনা ক্লাসের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক অনুশীলনের মৌলিক বিষয়গুলি পুনর্বিবেচনার সুযোগ করে দিয়েছিল। ক্রিয়াবানদের জন্য ক্রিয়াযোগ বিষয়ক একটি পর্যালোচনা ক্লাস ও তৎসহ অ-ক্রিয়াবানদের জন্য একটি বিশেষ সৎসঙ্গও দেওয়া হয়েছিল। এই অধিবেশনগুলি তরুণ সাধকদের অনুশীলনকে আরও পরিমার্জিত করতে, মনোযোগকে শক্তিশালী করতে এবং ধ্যানের অভিজ্ঞতাকে আরও গভীর করতে সাহায্য করেছে। এছাড়াও, ওয়াইএসএস সন্ন্যাসীগণের সাথে ব্যক্তিগত পরামর্শ, ব্যক্তিগত নির্দেশনায়, সাধন পথে উৎসাহ এবং আশ্বাস লাভের সুযোগ মিলেছিল।

আমি সত্যিই প্রতিটি অধিবেশন উপভোগ করেছি। আমার জন্য, স্বামীজি এবং ব্রহ্মচারীদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাত ছিল এক বিশেষ উজ্জ্বলতম দিক। এত ভালোবাসা এবং আন্তরিকতার সাথে তাঁরা শোনেন এবং জ্ঞানের মুক্তা উপহার দেন, যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। কেবলমাত্র তাঁদের উপস্থিতি আমাকে ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছে...

— পি. কে., মহারাষ্ট্র

নির্দেশিত পুনরালোচনার অধিবেশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা শক্তিসঞ্চার ব্যায়ামের সঠিক প্রক্রিয়াকে আরও নিখুঁতভাবে অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছেন।
ওয়াইএসএস সন্ন্যাসীগণের সাথে ব্যক্তিগত পরামর্শ, নির্দেশনা, সাধন পথে উৎসাহ এবং স্বচ্ছতা এনে দিয়েছে।

প্রক্রিয়া পর্যালোচনা ক্লাসগুলি দৈনন্দিন অনুশীলনে নিষ্ঠা ও দৃঢ়তাকে উৎসাহিত করেছে।

সেবা ও আধ্যাত্মিক সাহচর্য

সঙ্গমে পারস্পরিক সাহচর্য ও সেবার উপর সুসমন্বিত গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছিল। গুরুদেবের নামে পরস্পরে একে অপরের ও আশ্রমের সেবায় একসঙ্গে কাজ করার আনন্দ তরুণ সাধকেরা গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। সহযাত্রী সাধকদের স্বাগত জানানো ও আবাসনের ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে রান্নাঘরে সহায়তা, গ্রন্থ বিভাগে সেবা এবং আশ্রম প্রাঙ্গণের রক্ষণাবেক্ষণ, এই সমস্ত কাজে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সেবা কৃতজ্ঞতার এক স্বাভাবিক প্রকাশ হয়ে ওঠে। ঘরোয়া সান্ধ্য সমাবেশ আত্মিক বন্ধুত্ব গড়ে তোলার অনুকূলে ছিল। বিশেষ অধিবেশনের মাধ্যমে তরুণদের ওয়াইএসএস -এ স্বেচ্ছাসেবার বিভিন্ন পথ সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং সন্ন্যাস জীবনের ধারা ও আদর্শের সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। যারা সেবা ও আধ্যাত্মিক জীবনে আরও গভীরভাবে আত্মনিয়োগ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য পূর্ণকালীন সেবা ও সন্ন্যাস জীবনে যোগদানের সুযোগ সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়।

এই সঙ্গমে যোগ দিতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। আশ্রমে থাকা, নীরবে আহার গ্রহণ এবং অধ্যাত্মমনস্ক বন্ধুদের সাথে সংযোগ স্থাপন সত্যিই এক রূপান্তরকারী অভিজ্ঞতা। প্রতিটি মুহূর্ত— নীরবতা, সৎসঙ্গ কিংবা সেবার মধ্যে—আমার হৃদয়ের গভীরে স্পর্শ করেছিল। এই সঙ্গম কেবল একটি সমাবেশ ছিল না; এটি ছিল নিজের অন্তরের সেই চিরন্তন ও অপরিহার্য সত্তার কাছে এক গভীর প্রত্যাবর্তন।

— এ. ডি., ঝাড়খণ্ড

তরুণ সাধকরাও সঙ্গমে একটি নির্ধারিত সময়ে গুরুসেবা করার সুযোগ পেয়েছিলেন

আশ্রম প্রাঙ্গণে সেবা পরিণত হয়েছিল কৃতজ্ঞতার এক আনন্দময় অভিব্যক্তিতে।

একসাথে সেবা করার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সহজ সেবামূলক কাজে পরিপূর্ণতা খুঁজে পেয়েছিলেন।
ওয়াইএসএস -এ স্বেচ্ছাসেবার বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ অধিবেশন নিজেকে আরও গভীরভাবে সেবায় নিবেদন করার অনুপ্রেরণা জাগিয়েছিল।

পাত্রাতু হ্রদে ভ্রমণ

সঙ্গমের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল পাত্রাতু হ্রদে আয়োজিত ভ্রমণ। পথে সকলের একসঙ্গে জপ ও ভজন ভক্তিময় পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। সেখানে পৌঁছে তরুণ সাধকেরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটান —হ্রদের ধারে প্রকৃতি ভ্রমণ, নৌকাভ্রমণ, এবং গভীরভাবে আত্মস্পর্শী সমবেত কীর্তন ও ধ্যানের মাধ্যমে।

এই সঙ্গমের অংশ হতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। আশ্রম বা সহ-ভক্তদের সঙ্গ ছেড়ে যেতে মন চায়নি। আয়োজনটি ছিল অতি সুন্দরভাবে পরিচালিত। গুরুদেব, স্বামীজিদের এবং সমস্ত স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি গভীর প্রণাম এবং ভালোবাসা জানাই।

— এস.এস., কর্ণাটক

অংশগ্রহণকারীরা হ্রদের ধারে প্রকৃতি ভ্রমণ উপভোগ করছেন।
গুরুদেবের চেতনায় একাত্ম হয়ে সেই ভ্রমণে সাধকদের নৌকাগুলি হাসি ও আনন্দের কলরবে ভরে উঠেছিল।
পাত্রাতু হ্রদের স্থির জলরাশিতে ছিল সঙ্গমের শান্তির প্রতিফলন।
হ্রদের ধারে আত্মস্পর্শী কীর্তন হৃদয়কে উজ্জীবিত করেছিল। একসঙ্গে জপ ও ভজন করতে করতে সাধকেরা প্রকৃতি ও গুরুদেবের সঙ্গে নীরবে একাত্মতা অনুভব করেন।
আহারের পূর্বে আশীর্বাদ প্রার্থনা করা হয়েছিল, সকলকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে ঈশ্বরকে নিবেদন করা হলে আহার পবিত্র হয়।
সেবাদল যত্ন এবং নিষ্ঠার সাথে আহার পরিবেশন করেছিল

আধ্যাত্মিক সাহচর্যের এক স্মরণীয় সন্ধ্যা

শেষ সন্ধ্যায়, সঙ্গমের মূল আকর্ষণে ছিল একটি বিশেষ কীর্তন ধ্যানের আয়োজন। ধ্যান মন্দির থেকে তরুণ সাধকরা বেরিয়ে আসার সাথে সাথে আশ্রম প্রাঙ্গণ হাজার হাজার প্রদীপে আলোকিত হয়ে ওঠে। এরপর অনুষ্ঠিত মুক্তাঙ্গণে তরুণ সাধকদের আশ্রমের আলোকোজ্জ্বল দিব্য পরিবেশে সন্ন্যাসীগণের সাথে যোগাযোগ এবং আলাপচারিতার সুযোগ করে দেয়।

এই অভিজ্ঞতা ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা... কীর্তন পর্বগুলো আমার জন্য ছিল বিশেষ আকর্ষণ... তারা আমাকে ঈশ্বর এবং গুরুগণের প্রতি নতুন করে ভক্তিপূর্ণ করে তুলেছিল। ইচ্ছে হয়, সময়কে থামিয়ে রেখে এমন সঙ্গমে চিরকাল অংশ নিতে পারি।

— এস.এস., উত্তরপ্রদেশ

ওয়াইএসএস সন্ন্যাসীদের একটি বিশেষ সান্ধ্য কীর্তন শান্তি এবংদিব্য উষ্ণতায় পূর্ণ করেছিল।
তরুণ সাধকদের ভালোবাসা এবং ভক্তির ঐকতানে কীর্তন একত্রিত করেছিল।

কৃতজ্ঞতায় ভরা হৃদয়ে এই সঙ্গমকে সম্ভব করে তোলা সকলের প্রতি— সন্ন্যাসী, স্বেচ্ছাসেবক, আশ্রমকর্মী, এমনকি আশ্রমপ্রাঙ্গণের বৃক্ষরাজির প্রতিও, কৃতজ্ঞ চিত্তে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। সঙ্গমটি ছিল আনন্দময়, শান্তিময় ও আত্মাকে নবজীবনে উদ্দীপিতকারী।

— জে. জে., হরিয়ানা

আলোকময় ও আনন্দময় একটি রাত্রি—সঙ্গমের মুক্তাঙ্গনে ভক্তিতে উদ্ভাসিত আশ্রম।

আলোকমালায় সজ্জিত স্মৃতিমন্দির হয়ে উঠেছিল ভক্তি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের দীপশিখা।
দীপালোকের দীপ্তিতে স্নাত পবিত্র লিচু বেদি যেন গুরুদেবের চিরজাগ্রত উপস্থিতির প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

মুক্তাঙ্গন তরুণ সাধকদের জন্য স্বামীজিদের সান্নিধ্যে প্রদীপশিখার উজ্জ্বল দীপ্তিতে ঘরোয়া ভাবে মতবিনিময়ের সুযোগ করে দিয়েছিল। ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলি নির্দেশনা ও সৎসঙ্গের বন্ধনকে আরও গভীর করে তুলেছিল।

সমাপনী প্রতিফলন — অভ্যাসের শক্তি

শেষ দিনে, তরুণ সাধকরা তাদের শিক্ষা, সংকল্প এবং কৃতজ্ঞতা আন্তরিকতার সঙ্গে জ্ঞাপন করে। ‘অভ্যাসের শক্তি’ শীর্ষক সমাপনী সৎসঙ্গের মাধ্যমে সঙ্গমটি শেষ হয়।

সামগ্রিক বিষয়বস্তু এবং বিষয়সমূহ যেন সরাসরি আমার সাথে কথা বলছিল। মনে হচ্ছিল, কেবল গুরুদেব, স্বামীজি এবং আমিই কথোপকথন করছি। আমার অনেক প্রশ্নের উত্তর জিজ্ঞাসা না করেই পেয়েছিলাম। সপ্তাহান্তরে, আমি আরও ভদ্র, আমার ত্রুটি সম্পর্কে আরও সচেতন এবং নিজের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হয়ে উঠি।

— এম. ডি., মহারাষ্ট্র

‘অভ্যাসের শক্তি’ শীর্ষক সমাপনী সৎসঙ্গ প্রতিদিন গুরুদেবের শিক্ষা অনুশীলনের জন্য নতুন করে সংকল্পবদ্ধ করেছিল।
শেষ দিনে সাধকরা তাদের শিক্ষা এবং কৃতজ্ঞতা সবাইকে জানান।
গুরুদেবের চরণে পুষ্পাঞ্জলির মাধ্যমে সঙ্গম শেষ হল— এটি ছিল গভীর আশীর্বাদের এক মুহূর্ত।
ওয়াইএসএস সন্ন্যাসীদের থেকে প্রসাদ গ্রহণ আনন্দ এবং আশীর্বাদের সাথে সমাপ্তি চিহ্নিত করল।
প্রত্যেক সাধক প্রসাদ গ্রহণ করে, গৃহে সাধনা অব্যাহত রাখার নবোদ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রস্থান করলেন।

লিচু বৃক্ষের পাদদেশে: গুরুদেবের দৃষ্টিভঙ্গি

পরমহংস যোগানন্দ লিখেছিলেন: “শিশুদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষাদানের পরিকল্পনা আমার মনে সর্বদাই জাগরূক ছিল। সাধারণ শিক্ষা, যার লক্ষ্য কেবল শরীর আর বুদ্ধিবৃত্তির উৎকর্ষসাধন,তার বিষময় ফল আমি স্পষ্টই দেখেছি। গতানুগতিক শিক্ষাপদ্ধতিতে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক নীতি. যার অভাবে কোনো লোকই প্রকৃত সুখের অধিকারি হতে পারে না–তার প্রয়োজন এখনও রয়েছে। মনে মনে স্থির করলাম, এমন একটি বিদ্যালয় স্থাপন করব যাতে সুকুমারমতি বালকগণ পূর্ণ মানবত্বের আদর্শে গড়ে উঠতে পারে।” (যোগী-কথামৃত, পরিচ্ছেদ ২৭)

রাঁচি আশ্রমের এই পবিত্র লিচু বৃক্ষের পাদদেশে গুরুদেব পরমহংস যোগানন্দজি একটি আধুনিক গুরুকুলের জন্য তাঁর কল্পদৃশ্যের বীজ রোপণ করেছিলেন — যা তরুণদের জন্য আধ্যাত্মিক নীতির সাথে ব্যবহারিক শিক্ষার মিশ্রণ ঘটাবে।

একটি নবোদ্যমের শপথ

... আমি এখন সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত যে আমার মোক্ষলাভের জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবকিছুই ওয়াইএসএস- এর আছে....আমি শিক্ষায় দোষ না খুঁজে আমার প্রচেষ্টায় দোষ খুঁজব।

— পি. কে., মহারাষ্ট্র

তরুণ সাধকরা — ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী তরুণ প্রাপ্তবয়স্করা —যারা সমতাপূর্ণ আধ্যাত্মিক জীবনযাপন করতে এবং অনুশীলন করতে চায়, যারা ভবিষ্যতের সঙ্গম, নিভৃতাবাস এবং অনলাইন ফেলোশিপ সম্পর্কে তথ্য পেতে তরুণ সাধক হোয়াটসঅ্যাপ কমিউনিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে চায়, তাদের এই ইন্টারেস্ট ফর্ম টি পূরণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। তরুণ সাধক ফেলোশিপ টিম আপনার সাথে যোগাযোগ করবে যখন আমরা তরুণ সাধকদের জন্য পরিকল্পিত পরবর্তী অনুষ্ঠান বা সুযোগগুলির নির্ধারণের কাছাকাছি আসব।

এই শেয়ার করুন