কিশোর হৃদয়ে ঈশ্বরপ্রেমের লালন
যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অব ইন্ডিয়া (ওয়াইএসএস) আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছে যে হিমালয়ের পাদদেশে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য একটি সর্বভারতীয় গ্রীষ্মকালীন শিবির আয়োজন করা হচ্ছে।
স্থান: শুলিনি ইউনিভার্সিটি, সোলান, হিমাচল প্রদেশ
তারিখ: ৩১ মে থেকে ৬ জুন, ২০২৬ (রবিবার থেকে শনিবার)।
১২–১৭ বছর বয়সী ছেলে ও মেয়েরা অংশগ্রহণ করতে পারবে।
গুরুত্বপূর্ণ
- অভিভাবকদের অনুরোধ করা হচ্ছে উপরের তারিখগুলি তাদের ক্যালেন্ডারে নোট করে রাখতে। শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের শনিবার, ৩০ মে বিকেলের মধ্যে শিবিরস্থলে পৌঁছোতে হবে এবং তারা শনিবার, ৬ জুন সন্ধ্যায় প্রস্থান করতে পারবে।
- সকল ক্লাস ও ধ্যান ইংরেজি ভাষায় পরিচালিত হবে।
- ফেব্রুয়ারী মাসের শেষ নাগাদ ক্যাম্পে যোগদানের আবেদনপত্র প্রথমে আসা, প্রথমে পাওয়ার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হবে। এতে ১০৮ জন বালক এবং ১০৮ জন বালিকা অংশ নিতে পারবে।
- আবেদনপত্রের জন্য ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে এই লিঙ্কের স্থানটি দেখুন।
শিবির সম্পর্কে
এই শিবিরটি শ্রীশ্রী পরমহংস যোগানন্দের ‘সম্যক জীবনযাপন’ শিক্ষার উপর ভিত্তি করে আয়োজিত, যা দেহ, মন ও আত্মার সুষম বিকাশকে উৎসাহিত করে।
এটি ওয়াইএসএস সন্ন্যাসীদের তত্ত্বাবধানে, অভিজ্ঞ গৃহীশিষ্য ও সুপ্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় পরিচালিত হবে।
শিবির ও ক্যাম্পাসের বৈশিষ্ট্য
- শিবিরটি হিমাচল প্রদেশের সোলানে অবস্থিত ২৫-একর বিস্তৃত শুলিনি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে।
- শুলিনি ইউনিভার্সিটি ভারতের একটি শীর্ষস্থানীয় গবেষণামুখী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তারা এই শিবিরে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করছে।
- অত্যাধুনিক ক্যাম্পাস সুবিধাসমূহ—যেমন হোস্টেল কক্ষ, শ্রেণিকক্ষ, ভোজনালয়ের সুবিধা, ক্রীড়াঙ্গন ও অডিটোরিয়াম, ওয়াইএসএস শিবিরের জন্য উপলব্ধ করা হয়েছে।
- একই ক্যাম্পাসে এবং একই সপ্তাহে , ছেলে ও মেয়েদের শিবির পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলে যেসব পরিবারের ছেলে ও মেয়ে উভয় সন্তান রয়েছে, তারা একই সময় দুজনকেই শিবিরে পাঠাতে পারবেন।
- শিবির চলাকালীন, শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা একই বয়সের আধ্যাত্মিক বন্ধুদের একটি সম্প্রদায় হিসেবে, স্নেহময় প্রবীণদের নির্দেশনায় একসঙ্গে বসবাস করবে।
দৈনন্দিন কর্মসূচি
শিবিরের একটি সাধারণ দিন নানা ধরনের কার্যক্রমে পরিপূর্ণ থাকবে, যা আনন্দময় উপায়ে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে এবং তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও প্রতিফলন প্রথিত করবে:
- দৈনিক সমবেত ধ্যান
- ইচ্ছাশক্তি, বন্ধুত্ব ও নির্ভীকতা প্রভৃতি বিষয়ের উপর ‘সম্যক জীবনযাপন’ ক্লাস
- সন্ন্যাসীদের পরিচালনায় সৎসঙ্গ ও ধ্যান-প্রক্রিয়ার পর্যালোচনা ক্লাস
- খেলাধুলা ও ক্রীড়া
- গীতাপাঠ
- কীর্তন
- চলচ্চিত্র সন্ধ্যা
- চারুকলা ও হস্তশিল্প প্রকল্প
- প্রকৃতি ভ্রমণ
- আধ্যাত্মিক মেলা
- সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা
- দলীয় আলোচনা ও ভূমিকা-অভিনয়
অভিভাবকদের মতামত
নীচে পূর্ববর্তী ওয়াইএসএস শিশু শিবির সম্পর্কে কয়েকজন অভিভাবকের মতামত দেওয়া হল:
“মেয়েদের ‘সম্যক জীবনযাপন’ শিবিরটি ছিল আনন্দ ও শিক্ষার এক চমৎকার সমন্বয়, যেখানে শিশুরা গুরুদেবের শিক্ষাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করতে পেরেছে এবং একই সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্ত উচ্ছ্বাসের সঙ্গে উপভোগ করেছে। শিবিরটি কৌতূহল, আনন্দ ও বিকাশের এক পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল, যা শিশুদের আরও অনুপ্রাণিত, আগ্রহী এবং ইতিমধ্যেই আগামী বছরের অধিবেশনের জন্য অধীর করে তুলেছে।”
“গ্রীষ্মকালীন শিবিরটি আমাদের শিশুদের জন্য ছিল এক অর্থবহ ও সফল অভিজ্ঞতা। পরিবেশটি ছিল আনন্দময় ও আকর্ষণীয়, আধ্যাত্মিকভাবে উদ্বুদ্ধকারী এবং আমাদের মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। শিশুদের ভালোবাসা ও যত্নের সঙ্গে পরিচালিত করা হয়েছে এবং অনুগ্রহ, উদ্দীপনা ও ভক্তির মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। আমার সন্তান ইতিমধ্যেই সবার সঙ্গে কাটানো সেই সুন্দর সময়টিকে ভীষণভাবে মনে করছে।”
পরবর্তী পদক্ষেপ
- আপনার শিশু বা কিশোর-কিশোরীকে শিবিরে অংশগ্রহণের জন্য কীভাবে আবেদন করতে হবে, সেই তথ্য ফেব্রুয়ারির শেষার্ধে প্রদান করা হবে। অনুগ্রহ করে তথ্য ও আবেদন লিঙ্কের জন্য এই পৃষ্ঠাটি পুনরায় দেখুন।
- কিছু অভিভাবক শিবির চলাকালীন সময়ে দিল্লি, নয়ডা , চণ্ডীগড়, শিমলা, সোলান বা নিকটবর্তী স্থানে ব্যক্তিগত নিভৃতাবাস , তীর্থযাত্রা বা ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করতে পারেন।
আমরা প্রত্যাশা করি যে যোগদা পরিবারের শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা এই অনন্য ও সমৃদ্ধ ওয়াইএসএস শিশু ও কিশোর শিবিরে অংশগ্রহণ করবে এবং আধ্যাত্মিক বন্ধুত্ব, আনন্দময় কার্যক্রম, আত্ম-শৃঙ্খলা, শিক্ষাক্লাস এবং ঈশ্বরের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের পুনর্জাগরণের মাধ্যমে উপকৃত হবে।


















