আপনারাও “একবার ঈশ্বরের দর্শন পান” সম্পর্কে পরমহংস যোগানন্দের ইচ্ছা

২৫শে মার্চ, ২০২৫

ভূমিকা:

পরমহংস যোগানন্দ, প্রিয়তম জগৎগুরু এবং যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া/সেল্ফ-রিয়লাইজেশন ফেলোশিপের প্রতিষ্ঠাতা-গুরু, তাঁর যোগী-কথামৃত গ্রন্থে আধুনিক যুগের ঈশ্বরপ্রাপ্তির উদাহরণ উপস্থাপন করেছেন। লক্ষ লক্ষ পাঠক তাঁর এই মহাগ্রন্থে উল্লিখিত সাধু-সন্তদের বর্ণনায় মুগ্ধ হয়েছেন — বিশেষত তাঁর নিজ আধ্যাত্মিক পরম্পরার ব্রহ্ম-জ্ঞানী গুরুদের পরিচয়ে, যাঁরা আত্ম-উপলব্ধিকে পূর্ণরূপে মূর্ত করেছেন। 

পরমহংসজির জীবন উৎসর্গিত ছিল অনুসন্ধিৎসুদের এই উপলব্ধি দানে সহায়তা করার জন্য যে, প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে শান্তি, প্রেম ও আনন্দের অনন্ত সম্পদ বিরাজমান এবং তা মহান আত্মজ্ঞানী মহাপুরুষদের জীবনে পূর্ণ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর কামনা ছিল আমাদের এক আনন্দঘন ঈশ্বরের উদ্ভাস দেওয়া, যাতে আমরা সেই সত্য উপলব্ধি করতে পারি যা তিনি নিজে অর্জন ও অনুভব করেছিলেন।

যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া/সেল্ফ-রিয়লাইজেশন ফেলোশিপের তৃতীয় অধ্যক্ষ ও সংঘমাতা শ্রী দয়ামাতা পরমহংসজির সম্পর্কে বলেছিলেন: “তিনি মহান দিব্য-আত্মাদের সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন, যিনি এই পৃথিবীতে সত্যের জ্যোতির অবতার রূপে জীবনযাপন করেছিলেন যা মানবজাতির পথকে আলোকিত করেছেন।” 

এই পোস্টে আমরা পরমহংস যোগানন্দের নিজেরই বাণী এবং ওয়াইএসএস/এসআরএফ সভাপতি কর্তৃক অন্তর্দৃষ্টিসমূহ ভাগ করে নিচ্ছি (নীচের লিঙ্কে সংযুক্ত), যা প্রকাশ করে কিভাবে ঈশ্বর সম্পর্কে শুধুমাত্র বৌদ্ধিক জ্ঞানকে এক ব্যক্তিগত ও সর্বসন্তোষজনক অভিজ্ঞতায় রূপান্তরিত করা যায়।  

পরমহংস যোগানন্দের বক্তৃতা ও রচনা থেকে:

এই সংগঠনের প্রধান উদ্দেশ্য হল মানুষকে আত্মানুভূতিদান। যখন মানুষ বুঝতে শিখবে ঈশ্বরকে জানা তাদের পরম ভাগ্য ও কর্তব্য তখন পৃথিবীতে নবযুগের আগমন হবে।

আমি এখানে তোমাদের ধর্মোপদেশ দিতে আসিনি, বরং আমার জীবনের অভিজ্ঞতার উদ্যান থেকে আহরণ করা সত্যকে তোমাদের দিতে এসেছি….আমি যা তোমাদের দিচ্ছি, তা যেন তোমরা নিজেরা ঈশ্বরের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগের মাধ্যমে উপলব্ধি করতে পারো—এইটাই আমার কামনা। এই উপলব্ধির সঙ্গে তুলনীয় কিছুই নেই।

ঈশ্বরকে জানেন না বলেই তাকে না পাওয়ার ব্যর্থতার কথাও আপনারা বুঝতে পারেন না। একবার তার দেখা পেলে পৃথিবীর কোনো শক্তি আর সে দিক থেকে আপনাদের সরিয়ে আনতে পারবে না। আমার একমাত্র অভিলাষ সেই ঈশ্বরের দর্শন যাতে আপনারা পান, কেননা তার চেয়ে বড়ো লাভ আর কিছুই নেই।

যদি বলি একটা খুব সুন্দর ফল আমি পেয়েছি এবং বছরের প্রতিটি দিন তার স্বাদ আস্বাদনের সুযোগ না দিয়ে কেবল তার গুণগানই যদি আপনাদের কাছে করতে থাকি, তাতে কি আপনাদের তৃপ্তি হবে? তেমনি সত্য সম্বন্ধে তত্ত্বকথা শুনেও আত্মা তৃপ্তি পাবে না….আপনার জানার আগ্রহ এমন হওয়া চাই যেন সর্বান্তঃকরণে আপনি তারই সন্ধানে ব্যাপৃত হন।

ঈশ্বরকে কী ভাবে খুঁজে পাওয়া যায় তার উত্তর ভারতের যোগধ্যানের বিজ্ঞান দিয়েছে। আমি সেই দেশে ভ্রমণ করেছি। আমি এক যথার্থ আত্মজ্ঞানী গুরুর চরণে উপবিষ্ট হয়েছি। কেবল মাত্র ঈশ্বর যে আছেন তা নয়, আমি তাঁর উপস্থিতির সাক্ষ্য দিচ্ছি। আর যদি তুমি আমার কথা শোনো, তবে একদিন তুমি নিজেও তোমার আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে বলবে ঈশ্বর আছেন। তখন তুমি জানবে, আমি তোমাকে সত্য বলেছি।

ধ্যানের মাধ্যমে আপনার জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য ও অর্থ এবং ঈশ্বরের সঙ্গে আপনার সম্পর্কের আবিষ্কার ও পরমহংস যোগানন্দের গভীর জ্ঞানকে অঙ্গীভূত করার জন্য আমরা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাই। এই উপলব্ধি আপনাকে এক পরিপূর্ণতার অনুভূতি দেবে, যা আপনার সকল সাধনায় বিশুদ্ধ আনন্দের সঞ্চার করবে।

এই ব্লগ পোস্টে “৬টি আধ্যাত্মিকভাবে বিপ্লবী চেতনা যা পরমহংস যোগানন্দ বিশ্বে এনেছিলেন,” স্বামী চিদানন্দজি পরমহংস যোগানন্দের বিশ্বকে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার ওপর আলোকপাত করেছেন — একটি আধ্যাত্মিক ধনভাণ্ডার যা আধুনিক সভ্যতার গতিপথ বদলে দেবে এবং যারা দৈনন্দিন জীবনে যোগ-বিজ্ঞানকে প্রয়োগ করেছেন, তাদের জীবন রূপান্তরিত হবে।

এই শেয়ার করুন