নেপালে যে ধ্বংসাত্মক বন্যা সংঘটিত হয়েছে, তাতে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন বা যাঁদের জীবন এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, তাঁদের সকলের জন্য আমাদের হৃদয় গভীরভাবে সমবেদনা প্রকাশ করছে। বহু পরিবার এবং সম্প্রদায় অবর্ণনীয় দুঃখের মুখোমুখি হচ্ছে, কারণ তারা এই দুঃখদায়ক ঘটনাতে ভেসে যাওয়া প্রিয়জনদের জন্য শোক প্রকাশ করছে, অন্যদিকে অগণিত মানুষ এখনও নিখোঁজ ব্যক্তিদের খবরের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। এই বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর থেকেই ওয়াইএসএস এবং এসআরএফ আশ্রমে গুরুদেবের সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনীগণ, যাঁদের মধ্যে আমাদের অধ্যক্ষ শ্রীশ্রী স্বামী চিদানন্দ গিরিও রয়েছেন, সকলের মিলিত গভীর প্রার্থনা নেপালের এবং এই অঞ্চলের গুরুদেবের প্রিয় ও সমর্পিত ভক্তবৃন্দ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সকলের উদ্দেশ্যে প্রবাহিত হচ্ছে।
অনেক ভক্তেরই মনে এই প্রশ্ন হওয়া স্বাভাবিক যে, পবিত্র তীর্থস্থানের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধার সঙ্গে যাত্রা করা তীর্থযাত্রীদের ওপর এমন বিপর্যয় কীভাবে নেমে আসতে পারে। গভীর শোকার্ত মুহূর্তে, সীমিত মানববুদ্ধি সৃষ্টিকে এবং ঈশ্বরের দিকে প্রতিটি আত্মার প্রত্যাবর্তনকে নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি ও সমষ্টিগত কর্মের দিব্য নিয়মগুলোর কার্যকারিতা পুরোপুরি অনুধাবন করতে বিপর্যস্ত হয়। কিন্তু বিশ্বাসের সাথে আমরা যা জানতে পারি তা হল, যে সকল আত্মা এই পবিত্র তীর্থযাত্রায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভক্তিভরে নিজেদের মনকে প্রস্তুত করে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন, তাঁরা এখন নিরাপদ ও সুরক্ষিত আছেন এবং আলোকময়, সুন্দর ও মুক্তির এক লোকে উন্নীত হয়েছেন।
যখন ঈশ্বরের প্রতি প্রেমপূর্ণ বিশ্বাসের সাথে মর্ত্যজীবনের বিপর্যয় ও দুঃখের দিকে তাকাই এবং এই উপলব্ধি নিয়ে যে এই পৃথিবী আমাদের আসল বাসস্থান নয়, তখন আমরা আরও বেশি সচেতন হয়ে উঠি যে ঈশ্বরের অনন্ত প্রেম ও কৃপা সর্বদাই আমাদের প্রত্যেকের সাথে বিদ্যমান, এমনকি জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময়েও, যা প্রতিটি আত্মার জন্ম-জন্মান্তরের যাত্রাকে পরম মুক্তি ও পরমানন্দের দিকে পরিচালিত করে।
এই বিপর্যয়ের ফলে যাঁদের আকস্মিক ও দুঃখদায়ক মৃত্যু হয়েছে, সেই শোকসন্তপ্ত প্রিয়জন ও পরিবারবর্গদের জন্য আমাদের হৃদয় সমবেদনা ও প্রার্থনায় একত্রিত হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গতদের বস্তুগত সাহায্য প্রদানের জন্য আমরা যেন সাধ্যমতো সব কিছু করি। আসুন আমরা সকলে মিলে নেপাল, হিমালয় অঞ্চল এবং এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সকলকেই ঈশ্বরের নিরাময়কারী আলোকে পরিবেষ্টিত বলে কল্পনা করি। স্বামী চিদানন্দজি আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন: “গুরুদেব পরমহংস যোগানন্দজির আধ্যাত্মিক পরিবারের সদস্য এবং ওয়াইএসএস/এসআরএফ বিশ্বব্যাপী প্রার্থনা চক্রের সদস্য রূপে আমাদের একটি পবিত্র অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে–প্রার্থনার এমন স্পন্দন প্রেরণ করার, যা দুর্গতদের সান্ত্বনা, শক্তি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি প্রদান করে। গভীর ধ্যান, প্রার্থনা এবং গুরুদেবের আরোগ্যকারী প্রক্রিয়া প্রয়োগের মাধ্যমে, আমরা সান্ত্বনা, আশা এবং দিব্য নিরাময়ের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারি।”
স্বামী চিদানন্দজি এই প্রার্থনাটি পাঠিয়েছেন এবং আমাদের সকলকে এতে যুক্ত হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন: “গুরুদেব ও আমাদের মহান গুরুগণের কৃপা ও আশীর্বাদ সমস্ত আক্রান্ত ব্যক্তিকে দিব্য সুরক্ষায়, সান্ত্বনায় ও শান্তিতে আবৃত করুক। যারা এখনও নিখোঁজ, তারা যেন নিরাপদে উদ্ধার পায়। আর যারা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তারা যেন এই শোক সহ্য করার শক্তি লাভ করেন; আহতরা লাভ করুক আরোগ্য এবং যাদের খবর পাওয়ার অপেক্ষা এখনও শেষ হয়নি, তারা যেন আশার দ্বারা বলীয়ান থাকে। সর্বোপরি, আমাদের প্রত্যেকে যেন এই কথাটি স্মরণ রাখি যে, জীবনের অনিশ্চয়তার মধ্যেও আমাদের প্রত্যেকের প্রতি ঈশ্বরের ভালোবাসা একমাত্র অটল সত্য হয়ে বিরাজ করে।”
ওয়াইএসএস/এসআরএফ বিশ্বব্যাপী প্রার্থনা চক্র
আমরা আপনাকে আশ্বস্ত করছি যে ওয়াইএসএস এবং এসআরএফ-এর আশ্রমের সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনীরা তাঁদের জন্য গভীর প্রার্থনা অব্যাহত রেখেছেন যাঁদের প্রার্থনার প্রয়োজন রয়েছে। আপনি যদি চান যে আমরা আপনার বা অন্য কারও জন্য প্রার্থনা করি, তবে নীচে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করুন:
যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অব ইন্ডিয়া কর্তৃক প্রকাশিত নীচের ওয়াইএসএস/এসআরএফ বিশ্বব্যাপী প্রার্থনা চক্র পুস্তিকাটি পড়ার জন্যও আমরা আপনাদের উৎসাহিত করব।



















