যে যোগী সর্বভূতে আমাকে দেখেন এবং আমাতেই ব্রহ্মাদি ভূতজাতকে দেখিতে পান, আমি তাঁহার নিকট কখনই অদৃশ্য হই না এবং তিনিও আমার নিকট অদৃশ্য হন না।
— গড টকস উইথ অর্জুনা: দ্য ভগবৎ গীতা (৬:৩০)
প্রিয়জনেষু,
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব, জন্মাষ্টমীর এই আধ্যাত্মিক উত্থানের পুণ্যলগ্নে আপনাদের প্রত্যেককে হার্দিক অভিনন্দন। হাজার হাজার বছর আগে আবির্ভূত হলেও ঐশ্বরিক প্রেমের এই মহান ও প্রিয় অবতার আজও তাঁর আন্তরিক ভক্তদের কাছে ততটাই প্রকৃত ও বাস্তব, যতটা তাঁর মনোহর মানবদেহে বিচরণকালে — আত্ম-উপলব্ধির লক্ষ্যে যোগের রাজপথে নিষ্ঠাবান সাধকদের জন্য সদা তৎপর। আমরা কত ধন্য যে অর্জুনকে প্রদত্ত কৃষ্ণের সেই পবিত্র আত্মমুক্তির সূত্র আমাদের গুরুদেব পরমহংস যোগানন্দজির থেকে পেয়েছি।
ভগবদগীতায় শ্রীকৃষ্ণ আমাদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন যে, যিনি সর্বত্র তাঁকে দেখেন আর সবকিছুই তাঁর মধ্যে দেখতে পান, তিনি কখনও তাঁর নিকট অদৃশ্য হন না এবং ভক্তও তাঁর নিকট অদৃশ্য হন না। নিত্যদিনের নানা কর্তব্য ও জীবনধারার মাঝে সব সময় যখন আমরা ঈশ্বরকে স্মরণ করি, অস্থিরতার পরিবর্তে ধ্যানকে বেছে নিই এবং আমাদের প্রিয় পরমপিতাকে নিবেদন করে, সেই ভাবের সাথে সমস্ত কর্ম করি — যখন তুচ্ছ ভাবনার পরিবর্তে অন্যদের সম্বন্ধে সহানুভূতিসম্পন্ন ভাবনা পোষণ করি অথবা নেতিবাচক অভ্যাসকে প্রতিহত করি — তাঁর সর্বব্যাপী অস্তিত্বকে আরও স্বচ্ছভাবে আমাদের চেতনায় আকর্ষণ করি। কখনও কখনও ভক্তদের এমন মনে হতে পারে যে, ঈশ্বরের সাড়া পাওয়ার আগে আধ্যাত্মিকতার উচ্চতর স্তরে পৌঁছোতে হবে বা সম্পূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে হবে। অথচ সদা প্রেমময় ঈশ্বরের অতন্দ্র দৃষ্টি প্রতিটি ভক্তির দান আর প্রতিটি আন্তরিক প্রচেষ্টা অসীম ঔদার্যের সাথে সযত্নে রক্ষা করেন। গুরুদেব পরমহংস যোগানন্দজি যেমন তাঁর ভাগবত গীতার ব্যাখ্যা ও ভাষ্য গড টকস উইথ অর্জুনা-তে প্রকাশ করেছেন “সবচেয়ে ক্ষণস্থায়ী ভাবনা এবং সবচেয়ে তুচ্ছ কর্মও তাঁর সান্নিধ্যে পৌঁছোনর সোপান হয়ে উঠতে পারে।”
প্রিয়জনেরা, যে বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক উদ্দীপনা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্তদের জাগতিক আসক্তি ত্যাগ করে তাঁর স্বর্গীয় বংশীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁকে অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করেছিল, আপনাদের দৈনন্দিন ধ্যান ও চেতনার অনুভবে সেই একই বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক উদ্দীপনা তাঁর অসীম, সর্বতৃপ্তিময় প্রেমের বিদ্যমান উপস্থিতির জন্য আপনাদের হৃদয় ও মনকে সতত আরও ধারণক্ষম করে তুলুক — এমন প্রেম যা কখনও আপনাদের প্রতি দৃষ্টি হারায় না আর আপনাদের প্রতিটি আধ্যাত্মিক সিদ্ধিতে আনন্দিত হয়।
আমরা যেমন আনন্দের সাথে শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব উদযাপন করছি, আপনাদের প্রত্যেকের জন্যে আমার প্রার্থনা, চিরন্তনভাবে বিশ্বকে প্রদান করে চলা তাঁর দিব্য জীবন ও শিক্ষার আত্মজাগরণী প্রজ্ঞা আর আশীর্বাদ যেন আপনাদের প্রত্যেকের চেতনার পবিত্র দোলায় অর্জিত হোক।
জয় শ্রীকৃষ্ণ! জয়গুরু!
স্বামী চিদানন্দ গিরি



















