আমাদের প্রিয় তৃতীয় অধ্যক্ষ ও সঙ্ঘমাতা শ্রীশ্রী দয়ামাতার পবিত্র জন্মবার্ষিকী, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ — জগন্নাথপুর শিক্ষাঙ্গনে প্রস্তাবিত উচ্চ মাধ্যমিক মহাবিদ্যালয় ভবনের ভূমি পূজার (ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান) মাধ্যমে যোগদা সৎসঙ্গ ইন্টারমিডিয়েট মহাবিদ্যালয় (ওয়াইএসআইএম) এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন রচনা করল।
ওয়াইএসএস-এর সন্ন্যাসীবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির পরিচালন সমিতির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষকমন্ডলী, কর্মীবৃন্দ, ছাত্রছাত্রী এবং ভক্তবৃন্দ এই পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। সেল্ফ-রিয়লাইজেশন ফেলোশিপ থেকে ভারতে তীর্থভ্রমণে আসা স্বামী কেশবানন্দ এবং স্বামী প্রফুল্লানন্দও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দিব্য আশীর্বাদ প্রার্থনা
সকালে ঐতিহ্যপূর্ণ বৈদিক আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভূমি পূজা শুরু হয়েছিল, যখন স্বামী গোকুলানন্দ পূজার যজমান রূপে প্রকল্পটির সফল সমাপ্তির জন্য ঈশ্বরের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবার পরে ব্রহ্মচারী ভাস্করানন্দ স্বল্প সময়ের ধ্যান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। উপস্থিত সকলে এই প্রকল্পের নির্বিঘ্ন পরিসমাপ্তি এবং নির্মাণকাজে নিয়োজিত সেবক ও কর্মীবৃন্দের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করেন।
গুরুদেবের দূরদৃষ্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া
প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য অনুসারে, শ্রী এ.কে. সাক্সেনা (সচিব, যোগদা সৎসঙ্গ মহাবিদ্যালয়) রাঁচির যোগদা সৎসঙ্গ এডুকেশনাল ইনিস্টিটিউশনের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন আমাদের গুরুদেব শ্রীশ্রী পরমহংস যোগানন্দ এই ব্রহ্মচর্য বিদ্যালয় গড়ে তুলেছিলেন আর তাঁর জীবদ্দশাতেই শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মহাত্মা গান্ধীর মত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের আগমনে এই বিদ্যালয় সম্মানিত হয়েছিল।
ইন্টারমিডিয়েট মহাবিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত এই চারতলা ভবনটি ৩০টি পাঠকক্ষ, বিজ্ঞান গবেষণাগার, একটি গ্রন্থাগার, প্রশাসনিক কার্যালয় এবং ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক পৃথক ব্যবস্থাসহ প্রায় ৪৬,৫০০ স্কোয়ার ফুট ব্যাপী বিস্তৃত।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল জ্ঞান ভূষণ (ওয়াইএসআইএম পরিচালন সমিতির সহ-সভাপতি) বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই উদ্যোগটি ওয়াইএসএস-এর সামগ্রিক শিক্ষাদর্শের মূল বৈশিষ্ট্য — সৎচরিত্র, নৈতিক শিক্ষা ও নিষ্ঠার সাথে এই অঞ্চলের যুবসমাজকে গড়ে তোলার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
স্বামী পবিত্রানন্দ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই ভবন পিছিয়ে থাকা শিশুদের শিক্ষায় সহায়তার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে। এই প্রতিষ্ঠান গুরুদেবের “সম্যক জীবনযাপন” নিয়মাদর্শে চরিত্রগঠনের উপর ভিত্তি করে শরীর, মন ও প্রাণের সমন্বিত বিকাশের লক্ষ্যে কাজ করে। তিনি জানান এই প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ₹১৪ কোটি এবং দাতাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শ্রী অরবিন্দ কাটিয়ার (সম্পাদক, ওয়াইএসআইএম) মহাশয়ের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির পরিসমাপ্তি হয় এবং এরপর প্রসাদ ও মধ্যাহ্নভোজ পরিবেশিত হয়।



















