সাহসের অনুশীলনই সাহসকে বিকশিত করার পথ — শ্রী দয়ামাতা

৮ মে, ২০২৬

১৯৬৫-র ১৫ই জুন লস অ্যাঞ্জেলস-এর সেল্ফ-রিয়লাইজেশন ফেলোশিপ আন্তর্জাতিক সদর দপ্তরে সৎসঙ্গ চলাকালীন প্রদত্ত একটি বক্তৃতার অংশবিশেষ। “ ভয়ের মুখোমুখি হওয়ার সাহস ” শীর্ষক এই বক্তৃতাটি ২০২০-তে যোগদা সৎসঙ্গ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং এটি শ্রী দয়ামাতার বক্তৃতার তৃতীয় সংকলন, আসন্ন জার্নি উইথ পরমহংস যোগানন্দ-এর একটি অধ্যায় হবে। শ্রী দয়ামাতা ১৯৫৫ থেকে ২০১০-এ তাঁর দেহত্যাগের আগে পর্যন্ত যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া/সেল্ফ-রিয়লাইজেশন ফেলোশিপ-এর অধ্যক্ষ এবং সংঘমাতার দায়িত্ব পালন করেন।

পদ্ম-কমলা-রেখাচিত্র

প্রত্যেক মানুষেরই সাহস নামক গুণটির অনুশীলন করা প্রয়োজন। সাহস মানেই ভয়ের অনুপস্থিতি নয় ; একজন ব্যক্তি প্রচণ্ড আতঙ্কগ্রস্ত হয়েও সাহসী হতে পারেন । প্রকৃত বীর কখনও ভয়ের কাছে নতি স্বীকার করেন না বরং সেগুলোকে মোকাবিলা করে জয় করার জন্য মনস্থির করেন।

আমরা হয়তো কোনো কারণ না জেনেই কোনো কিছুকে ভয় পেতে পারি, এর কারণ সম্ভবত এই জীবনে বা পূর্বজন্মে ভুলে যাওয়া কোনো বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা। কিন্তু আমরা যদি আমাদের নিরাপত্তাহীনতাগুলোকে বস্তুনিষ্ঠভাবে দেখি, তাহলে সাধারণত দেখতে পাই যে সেগুলো ভিত্তিহীন। “আমাদের একমাত্র ভয়ের বিষয় হল ভয় নিজেই।”* এই উক্তিটিতে অনেক সত্যতা রয়েছে। প্রায়শই আমাদের ভালো থাকার অনুভূতির প্রতি প্রধান হুমকিগুলো আমাদের সম্মুখীন হওয়া বাহ্যিক পরিস্থিতিতে নিহিত থাকে না বরং এই সত্যে নিহিত থাকে যে আমরা আত্মার সহজাত শক্তি ও বিশ্বাস দিয়ে সেই পরিস্থিতিগুলোর মোকাবিলা করতে শিখিনি।

ছোটবেলায় আমার এইরকম একটা অভিজ্ঞতা হয়েছিল, যার ফলে আমি অন্ধকারকে ভীষণ ভয় পেতে শুরু করি। আমার বয়স তখন আট কি নয়, এক রাতে মা আমাকে আমার ছোট্ট ভাইকে কিছুক্ষণের জন্যে কোলে নিতে বললেন। আমি একটা জানালার কাছে বসে চুপচাপ ওকে দোলাচ্ছিলাম। ঘটনাচক্রে, আমি ঠিক তখন ‘আলি বাবা ও চল্লিশ চোর’-এর গল্পটা পড়ছিলাম আর আমার অপরিণত কচি মনটা গল্পের চোরেরা তাদের শিকারদের সাথে যা করেছিল, তার বীভৎস সব ছবিতে ভরে ছিল। এদিকে পাড়ার কিছু ছেলে দুষ্টুমি করার মতলবে জানালার বাইরে চুপিচুপি এগিয়ে এসে হঠাৎ করে একের পর এক ভয়ঙ্কর চিৎকার করতে শুরু করল । আমি তো ভয়ে আঁতকে একেবারে চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠলাম।

এরপর বহুদিন যাবত আমি অবচেতনভাবে অন্ধকারকে খুব ভয় পেতাম, মনে হত অন্ধকারে কিছু লুকিয়ে থাকতে পারে। আমি কখনই কোনো কিছুকে ভয় পেতে পছন্দ করি না, তাই একদিন আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম, “আমার সমস্যাটা কী ? আমি অন্ধকারকে ভয় পাই কেন?” আমি ঠিক করলাম, যতগুলো সম্ভব অন্ধকার ঘরের মধ্যে দিয়ে হেঁটে গিয়ে আমার ভয়কে জয় করব। আর আমি সেটাই করেছিলাম।

স্বামী শ্রীযুক্তেশ্বরজির ভাষায়, “ভয়ের মুখোমুখি হও, তাহলে তা আর তোমায় কষ্ট দেবে না।” আপনার ভয় থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা বৃথা, কারণ যতক্ষণ না আপনি ঘুরে দাঁড়িয়ে তাদের মুখোমুখি হচ্ছেন, ততক্ষণ তারা আপনার পিছু নেবে। প্রথমবার চেষ্টা করার সময় এটি খুব কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু তবুও করুন। দ্বিতীয়বার এটি আরও সহজ হবে এবং শীঘ্রই আপনি সেই ভয়কে জয় করে ফেলবেন। সাহসের অনুশীলনই হল সাহসকে বিকশিত করার পথ।

পাদটীকা:
* ফ্রাঙ্কলিন ডি.রুজভেল্ট।

পদ্ম-কমলা-রেখাচিত্র

আমরা আপনাকে ওয়াইএসএস/এসআরএফ-এর তৃতীয় অধ্যক্ষ ও সংঘমাতা, আমাদের প্রিয় শ্রী দয়ামাতার অনুপ্রেরণাদায়ক জীবন সম্পর্কে জানতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। তাঁর জীবন ছিল ভালোবাসা ও নম্রতায় পূর্ণ; ঈশ্বর ও তাঁর গুরু পরমহংস যোগানন্দের প্রতি একনিষ্ঠ সেবায় উৎসর্গীকৃত।

এই শেয়ার করুন