কলকাতায় দ্বাদশতম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনকালে পরমহংস যোগানন্দকে শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্মানিত করা হয়েছে

২৮ জুন, ২০২৬

যোগ দিবসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে পরমহংস যোগানন্দের পরম্পরাকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে

দ্বাদশতম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে (২১ জুন উদযাপিত), তার পূর্ববর্তী দিনগুলিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কলকাতা শহরের বিভিন্ন স্থানে আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় গুরুদেব, যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অব ইন্ডিয়া-র প্রতিষ্ঠাতা শ্রীশ্রী পরমহংস যোগানন্দ এবং অন্যান্য মহান আধ্যাত্মিক মহাপুরুষদের প্রতি বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে শ্রদ্ধা ও সম্মান নিবেদন করেছে।

সমগ্র কলকাতা ব্যাপী পরমহংস যোগানন্দজি ও অন্যান্য আধ্যাত্মিক মহাপুরুষদের স্মরণে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য

বাংলার সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে উদযাপন করার জন্য কলকাতা শহরজুড়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন সরকারি ব্যানার প্রদর্শন করা হয়। এই ব্যানারের মাধ্যমে পরমহংস যোগানন্দজির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ ও মনীষী: স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রী অরবিন্দ, শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং শ্রী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ জানানো হয়।

বর্ণাঢ্য আয়োজন: বালুকাশিল্প ও ড্রোন প্রদর্শন

শ্রদ্ধাঞ্জলি শুধু সরকারি আয়োজনেই সীমাবদ্ধ ছিল না, অপূর্ব প্রদর্শনী হাজারো নাগরিককে মুগ্ধ করে। কলকাতার মিলেনিয়াম পার্কে হুগলি নদীর তীরে, এক মনোরম ও নিপুণ বালুকা শিল্প, নির্মিত ও প্রদর্শিত হয়, যা দেখতে এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের সন্ধ্যায় আকাশজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় এক মনোমুগ্ধকর সমন্বিত ড্রোন প্রদর্শন। হাজার হাজার আলোকিত ড্রোনের সুনিপুণ বিন্যাসে জলের উপর ফুটে ওঠে বিভিন্ন প্রতীক, যা বিশ্বব্যাপী যোগ ও ধ্যানের আলোকধারা ছড়িয়ে পড়ার বার্তা বহন করে।

পরমহংস যোগানন্দ এবং আধুনিক যুগের কয়েকজন শ্রেষ্ঠ মনীষী ও আধ্যাত্মিক মহাপুরুষকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মিত হয় এক অপূর্ব বালুকাশিল্প।
“সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ” — এই ভাবধারাকে তুলে ধরে প্রদর্শিত একটি সরকারি ব্যানার।

এ ধরনের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পরমহংস যোগানন্দজির যোগদর্শন — যা শুধুমাত্র শারীরিক অনুশীলন করা নয়, বরং যা সমগ্র মানবজাতির অন্তরের শান্তি লাভের সর্বোচ্চ ও সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য পথ — যা ক্রমাগত সর্বোচ্চ পর্যায়ে স্বীকৃতি লাভ করে চলেছে।

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে কলকাতা ও শ্রীরামপুরে ওয়াইএসএস-এর বিশেষ নিবেদন

২১ জুন ২০২৬, প্রবল বৃষ্টি ও মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া উপেক্ষা করে শত শত তত্ত্বসন্ধানী, যোগানুরাগী এবং ওয়াইএসএস-এর ভক্তগণ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে, কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী দুটি স্থান: দক্ষিণেশ্বরস্থিত যোগদা সৎসঙ্গ মঠ এবং শ্রীরামপুরের স্বামী শ্রীযুক্তেশ্বর গিরি স্মৃতি মন্দিরে আয়োজিত বিশেষ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

দক্ষিণেশ্বর

২১ জুন দক্ষিণেশ্বরের যোগদা সৎসঙ্গ মঠে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ওয়াইএসএস-এর সন্ন্যাসী ক্রিয়াযোগের ইতিহাস, বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এবং আধুনিক যুগে এর প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। তিনি বিশেষ গুরুত্ব সহকারে বলেন, কী ভাবে এই পবিত্র যোগবিজ্ঞান আধুনিক জীবনের মানসিক চাপ, উদ্বেগ দূর করার কার্যকরী প্রতিষেধকের কাজ করে এবং শরীর ও মনের সুসমন্বয় প্রতিষ্ঠা করে। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, নিয়মিত ক্রিয়াযোগ অনুশীলন,অন্তরে গভীর প্রশান্তির অনুভূতি প্রদান করে, শ্বাস-প্রশ্বাস ও মনকে ক্রমে শান্ত ও স্থির করে আনন্দময় দিব্য চেতনা জাগরিত করে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভক্তদের জন্য সন্ন্যাসী নির্দেশিত একটি প্রাথমিক ধ্যান-পর্বের আয়োজন করা হয়, যেখানে সঠিক বসার ভঙ্গি, প্রাথমিক শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, মানসদর্শন এবং সংকল্পবাক্যের প্রক্রিয়া অনুশীলন করানো হয়।

ওয়াইএসএস দক্ষিণেশ্বর আশ্রমে এই অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়েছিল।

শ্রীরামপুর

শ্রীরামপুর যোগদা সৎসঙ্গ ধ্যানকেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের কর্মসূচিতে প্রায় ২১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা স্বামী শ্রীযুক্তেশ্বর গিরি স্মৃতি মন্দিরের প্রাঙ্গণে সমবেত হন।

শিশু সৎসঙ্গের শিক্ষিকাদের সুমধুর উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর উপস্থিত দর্শকরা এক সমবেত যোগ-প্রদর্শনী উপভোগ করেন, যেখানে সুসমন্বিত পরিবেশনার মাধ্যমে যোগাসনের শৃঙ্খলা, সামঞ্জস্য ও নান্দনিক সৌন্দর্য তুলে ধরা হয়।

ওয়াইএসএস-এর সন্ন্যাসী স্বামী অচ্যুতানন্দ গিরি অন্তরশান্তি বিষয়ক এক অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতা প্রদান করেন। যেখানে তিনি প্রার্থনা ও ধ্যানের প্রক্রিয়া নিয়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন এবং মানসিক স্বচ্ছতা ও সার্বিক সুস্থতা অর্জনে প্রার্থনা ও ধ্যানের অপরিহার্য ভূমিকা তুলে ধরেন।

শ্রীরামপুর ধ্যানকেন্দ্রে স্বামী অচ্যুতানন্দ গিরি ধ্যানের প্রক্রিয়া নিয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেন।

এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শ্রম এবং জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি (পিএইচই) দপ্তরের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শ্রী ভাস্কর ভট্টাচার্যকে যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অব ইন্ডিয়া-র পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা জানানো হয়।

এই অনুষ্ঠানের গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশে অভিভূত হয়ে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, তিনি বক্তা হিসেবে নয়, বরং একজন শ্রোতা হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, সেদিনের আলোচনা ও উপস্থাপনা থেকে তিনি গভীরভাবে উপকৃত ও অনুপ্রাণিত হয়েছেন।

এই কর্মসূচি স্থানীয় মানুষের জন্য যোগ ও ধ্যানের শারীরিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিক উপকারিতা প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করার এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে এটি গুরুদেবের শিক্ষার চিরন্তন ব্যবহারিক তাৎপর্যকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে এবং বর্তমান সময়েও তার প্রাসঙ্গিকতাকে আরও সুদৃঢ়ভাবে তুলে ধরে।

আমাদের সঙ্গে অন্তরশান্তির অভিজ্ঞতা লাভ করুন

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠান এখন একাধিক ভাষায় উপলব্ধ

ক্রিয়াযোগ ধ্যানের শিক্ষা আজ তার সুদূরপ্রসারী প্রভাবের জন্য ক্রমশ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করছে। অন্তরের সামঞ্জস্য বিকাশের পথে একটি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আপনাকেও আন্তরিকভাবে আমন্ত্রিত জানাই।

আপনি যদি অন্তরে শান্তির অভিজ্ঞতা লাভ করতে, ধ্যানের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া শিখতে আগ্রহী হন এবং ওয়াইএসএস-এর সন্ন্যাসীদের পরিচালনায় নির্দেশিত ধ্যানে অংশ নিতে চান, তবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে ওয়াইএসএস আয়োজিত অনুষ্ঠান দেখার জন্য আপনাকে আন্তরিক আমন্ত্রণ জানাই।

আসুন আমরা, যোগের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের অন্তরে শান্তি এবং বিশ্বে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে এগিয়ে যাই।

এই শেয়ার করুন