ভূমিকা:
আপনারা এখন এক নতুন বছরের পূর্ণ প্রতিশ্রুতির দ্বারপ্রান্তে — সতেজ সম্ভাবনাময় আশার উদীপ্ততায় গ্রহণযোগ্য — আমরা আপনাদের মূল্যবান আধ্যাত্মিক ও পার্থিব অগ্রগতির রহস্যের ওপর পরমহংস যোগানন্দের প্রাজ্ঞ ভাবধারা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।
তাঁর “অনুপ্রাণনা” প্রবন্ধে (মানুষের চিরন্তণ অন্বেষণ বইতে উপলব্ধ) তিনি লিখেছেন: “এই বিশাল পৃথিবীর বিস্তৃত দৃশ্যপটের দিকে তাকালে দেখি: সদাব্যস্ত মানুষ জীবন প্রবাহে মহাবেগে ভেসে চলেছে। এ সম্বন্ধে একটু ভাবলে মনে বিস্ময়ের উদ্রেক হয়, প্রশ্ন জাগে—কোথায় চলেছে সবাই? কী তাদের উদ্দেশ্য? গন্তব্যস্থলে পৌঁছোবার শ্রেষ্ঠ ও নিশ্চিত পথটিই বা কী?”
পরমহংসজি এই প্রবন্ধে বলেছেন, উদ্যম মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ গুণের একটি। আর প্রত্যেক মানুষের মধ্যে অসীম সৃজনী শক্তির গভীর উপলব্ধিতে তাঁর পাঠকদের তিনি প্রশ্ন করেন: “এই দৈব উপহার পেয়ে তুমি কি করেছ? কতজন মানুষ সত্যিসত্যিই তাদের সৃজনশীল শক্তিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করে?”
এই নববর্ষে আপনার স্বপ্ন বিকশিত করতে ও আরও গভীরতর ধ্যানের প্রচেষ্টায় আপনি যখন আক্ষরিক অর্থে দৈব অনুপ্রেরণা ও আনুকুল্য অনুভব করছেন — এই উদ্যোগের বিশেষ আত্মগুণ প্রয়োগের জন্য ২০২৪-এর এই প্রথম সংবাদ সংকলনটির ব্যবহারের জন্য আপনাদের আমন্ত্রণ জানাই।
ঠিক যেমন পরমহংসজি মনশ্চক্ষে দেখেছিলেন, তেমনই ধারণা করুন উদ্যোগী মানুষ হয়ে ওঠা আপনার সাধ্যের মধ্যেই: “…ধ্রুবতারার মতো উজ্জ্বল — ঈশ্বরের মহতি সৃষ্টিশক্তির দ্বারা শূন্য থেকে সৃষ্টি করে, অসম্ভবকে সম্ভব করে।”
পরমহংস যোগানন্দের বক্তৃতা ও রচনা থেকে:
নিজেকে এই প্রশ্ন করো: “কিছু করার জন্য আমি কি এমন প্রচেষ্টা করেছি যা আর কেউই করেনি ?” কর্মোদ্যোগ স্থাপনার এটাই সূচনার সন্ধিক্ষণ।
উদ্যোগ, সৃষ্টি করার শক্তি…যা নতুন ভাবে করার প্রচেষ্টা করে আর নতুন জিনিস সৃষ্টির চেষ্টা করে। উদ্যোগ, তোমার সৃষ্টিকর্তার থেকে প্রত্যক্ষভাবে প্রাপ্ত সেই সৃজনশীল ক্ষমতা।
তুমি যখন অসাধারণ কিছু সৃষ্টি করতে চাও, শান্ত হয়ে বসে তোমার অন্তরের অসীম, উদ্ভাবনী, সৃজনশীল শক্তির সাথে সংযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত গভীর ধ্যানে ডুবে যাও। নতুন কিছু চেষ্টা করো, তবে সর্বদা নিশ্চিত থেকো সেই মহান সৃষ্টিতত্ত্ব তোমার সমস্ত কাজকর্মের পশ্চাতে আছেন; আর সেই তোমাকে সর্বদাই নজরে রাখবেন।
দিব্যশক্তির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করুন, যে কোনো কার্যেই আপনি নিযুক্ত থাকুন না কেনো, তা সে কারখানার শ্রমিক হোন আর ব্যবসায়ীই হোন, দৃঢ় কণ্ঠে বলুন — “আমার মধ্যে রয়েছে অনন্ত সৃষ্টিশক্তি….। আমি ঈশ্বরের শক্তি, আমার সত্ত্বার শক্তিশালী উৎস। আমি ব্যবসার জগতে, চিন্তার জগতে, জ্ঞানের জগতে সত্য প্রতিষ্ঠা করব। আমি আর আমার পরমপিতা অভিন্ন। আমি সৃষ্টিকর্তা পিতা ব্রহ্মার মতই সৃষ্টি করতে সমর্থ।”
বড় হওয়ার, অসাধারণ অনুপ্রাণনা শক্তির অধিকারী হওয়ার রাস্তা আছে। জ্ঞান, উপযুক্ত শিক্ষা ও সেল্ফ-রিয়লাইজেশন-এর [যোগদা সৎসঙ্গ] সাধন প্রণালীর শিক্ষার অভ্যাসে এই উদ্যমী শক্তির বিকাশ সাধন হয় এবং তাকে পূর্ণরূপে সক্রিয় করতে পারো।
আমার গুরুদেব শ্রীযুক্তেশ্বরজি প্রায়ই বলতেন, “মনে রেখো: যদি তোমার মধ্যে সত্যই সেই বিশ্বাস থাকে যা ঐশ্বরিক এবং তোমার এমন জিনিস পেতে ইচ্ছা করে যা পৃথিবীতে পাওয়া যায় না, তাহলে তোমার জন্যই তাও সৃষ্টি হবে।” অন্তরের শক্তির ওপর ও ইচ্ছার আধ্যাত্মিক শক্তির ওপর, আমার এইরূপ একটা দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, তাই আমি যখন যা চাইতাম তা পাওয়ার জন্য নতুন সুযোগের সৃষ্টি হত।
তোমার ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগাতেই হবে। তুমি যদি মনস্থির করে নিয়ে অগ্নিশিখার মতো এগিয়ে যেতে পারো, তোমার পথের প্রতিটি বাধা দূর হয়ে যাবে।
তোমার ইচ্ছাশক্তি অবশ্যই এমন বিকশিত করতে হবে — যেন শুভ কিছুর সাধনে প্রয়োজন হলে তোমার সেই ইচ্ছাশক্তি সাগর শুকিয়ে দিতে পারে। সেই সর্বশ্রেষ্ঠ ইচ্ছাশক্তি ধ্যানেও প্রয়োগ করা উচিত। পরমপিতা চান আমরা যেন আমাদের অন্তরাত্মার ইচ্ছার খোঁজ পাই আর তাঁর সন্ধানে তা প্রয়োগ করি। ঈশ্বরসন্ধানের এইরকম শক্তিশালী ইচ্ছা জাগিয়ে তোলো। গূঢ় তত্ত্বকথা নয় বরং ধ্যানের মাধ্যমে তোমার নিজের প্রচেষ্টা তোমাকে মুক্তি দিতে পারে।
ওয়াইএসএস ব্লগে আপনি পরমহংস যোগানন্দের একটি গল্প পড়তে পারেন কিভাবে তিনি দৈব উদ্যোগের শক্তি প্রয়োগ করেছিলেন যখন তাঁর গুরুদেব তাঁকে বলেছিলেন যে এই জীবনে তাঁকে উপযুক্ত আত্মজ্ঞানী গুরু হয়ে উঠতে হবে। পরমহংসজির ব্যক্তিগত ঘটনাবলি সত্যই প্রেরণাদায়ী, কি মনোভাব নিয়ে আপনার নিজের সাধনায় সাফল্যকে আলিঙ্গন করতে পারবেন তাঁর উপদেশের এই তথ্য এখানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

















