ওয়াইএসএস যুব পরিষেবা বিভাগ বেঙ্গালুরু ও চণ্ডীগড়ে ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ তরুণ সাধক শিবিরের আয়োজন করে
“ জীবনের নানা অশান্তি ও প্রতিকূলতার মধ্যেও কেউ যদি জানতে চায় যে কীভাবে আনন্দময় জীবনযাপন করা যায়, এই শিবিরে তারই অভিজ্ঞতা হয়েছে।”
— ডি. এম. , বেঙ্গালুরু
এই কথাগুলির মধ্য দিয়ে এক তরুণ ভক্ত বেঙ্গালুরুর ব্যস্ত প্রযুক্তিনগরীতে ওয়াইএসএস যুব পরিষেবা বিভাগের আয়োজিত তিনদিনব্যাপী তরুণ সাধক শিবিরে তাঁর অভিজ্ঞতার সারাংশ তুলে ধরেছেন। শিবিরটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে। এর এক সপ্তাহ পর চণ্ডীগড়েও অনুরূপ একটি শিবির অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তরুণ সাধকেরা ওয়াইএসএস -এর পথে তাঁদের সমবয়সি ও সমমনস্কদের সান্নিধ্যে একটি সপ্তাহান্ত আধ্যাত্মিকভাবে নিজেদের পুনরুজ্জীবিত ও নবসঞ্জীবিত করার সুযোগ পান।
এই আঞ্চলিক তরুণ সাধক শিবিরগুলি একটি নতুন উদ্যোগ, যার উদ্দেশ্য হল ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি ওয়াইএসএস ভক্তদের কাছে গুরুদেব পরমহংস যোগানন্দের ‘সম্যক জীবনযাপন ’ শিক্ষাকে পৌঁছে দেওয়া। এই শিবিরগুলি তাঁদের আধুনিক জীবনের অবিরাম ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে কিছু সময়ের জন্য দূরে সরে এসে এক শান্ত নির্জন পরিবেশে নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করার সুযোগ করে দেয়।
কর্মে নিযুক্ত পেশাজীবী, শিক্ষার্থী, তরুণ মাতাপিতা এবং অন্যান্যদের নিয়ে ১৮০ জনেরও বেশি ভক্ত এই সপ্তাহান্তের শিবিরগুলিতে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের অনেকের পক্ষেই সময় ও দূরত্বের সীমাবদ্ধতার কারণে নিজেদের ব্যস্ত জীবন থেকে বেরিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আধ্যাত্মিক শিবিরে যোগ দেওয়া সাধারণত কঠিন হয়ে ওঠে।
“দিব্য সান্নিধ্যে জীবনযাপন”
তরুণ সাধকেরাই নিজেদের জন্য শিবিরের এই বিষয়বস্তু নির্বাচন করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছিল একটি সুস্পষ্ট অভিপ্রায়, আধুনিক বিশ্বের নানা সমস্যার মধ্যেও কীভাবে ঈশ্বরের মধ্যে নিজেকে স্থির ও নিবিষ্ট রাখা যায়, তার একটি বাস্তব পথনির্দেশ: “দিব্য সান্নিধ্যে জীবনযাপন।”
বেঙ্গালুরুতে (১৯–২২ ফেব্রুয়ারি) এবং চণ্ডীগড়ে (২৬ ফেব্রুয়ারি–১ মার্চ) শিবির এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে আগত অংশগ্রহণকারীদের ক্লান্ত মুখগুলি অল্প সময়ের মধ্যেই উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। বাইরের সেই চাপ ও অসামাল জগৎ যেন ধীরে ধীরে দূরে সরে গিয়েছিল, আর শিবিরের আনন্দময় পরিবেশ সবাইকে আবৃত করেছিল। শিবিরের দৈনন্দিন কর্মসূচি ছিল সরল, কিন্তু উদ্দেশ্যপূর্ণ, ধ্যান, সেবা, আধ্যাত্মিক অধ্যয়ন, আত্মবিশ্লেষণ এবং শরীরচর্চা — এই পাঁচটি বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি সুষম দৈনিক জীবনযাত্রা। গুরুদেব যে সম্যক জীবনযাপনের শিক্ষা দিয়েছেন, তারই আদলে এই কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল শরীর, মন ও আত্মার পুনরুজ্জীবন।
আধ্যাত্মিক অনুশীলনের মধ্যে প্রতিদিন দুবার ওয়াইএসএস সন্ন্যাসীদের পরিচালনায় সমবেতভাবে শক্তিসঞ্চার ব্যায়াম ও ধ্যানের অনুশীলন করা হতো। শিবিরের বিশেষ আকর্ষণ ছিল শ্রবণ (গভীর অধ্যয়ন) পর্ব, জপ-সহ পদচারণা এবং প্রকৃতির মাঝে ভ্রমণের দিনগুলি।
এই অশান্ত পৃথিবীতে ভারসাম্যের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা
এই অল্প কয়েকটি দিনেই শিবিরগুলি তরুণ সাধকদের শারীরিক পুনরুজ্জীবনের সুযোগ, মানসিক অধ্যয়নের জন্য সময় এবং গভীর ধ্যানে নিমগ্ন হওয়ার অবকাশ দিয়ে অন্তরের সাম্যতা অনুভব করতে সাহায্য করেছিল। যোগানন্দজির এই গভীর সত্যবাণী যেন শিবিরের প্রাঙ্গণে প্রতিধ্বনিত হয়েছিল:
হাজার হাজার মানুষ আমার বক্তৃতা শুনেছেন, কিন্তু তাঁদের মধ্যে খুব কম লোকই শোনা কথাগুলিকে সত্যিই কাজে প্রয়োগ করেছেন। যারা তা করবে, তারা উপলব্ধি করবে সেই মহাশক্তিশালী সত্যকে — সর্বত্র বিরাজমান সেই দিব্য প্রেম ও মহিমাকে, যা ক্রমশ তাদের চেতনার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হতে থাকবে।
— শ্রীশ্রী পরমহংস যোগানন্দ
বাস্তব জীবনের নানা উদাহরণ, কবিতা ও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সমৃদ্ধ আন্তঃক্রিয়ামূলক কর্মশালার মাধ্যমে স্বামী নির্মলানন্দ, স্বামী শঙ্করানন্দ এবং ব্রহ্মচারী সৌম্যনন্দ পৃথকভাবে প্রবীণ ও নবীন সাধকদের ‘সম্যক জীবনযাপন’ ক্লাস পরিচালনা করেন। তরুণেরা স্বচ্ছন্দে তাঁদের জীবনের নানা সমস্যা ও সংগ্রামের কথা দলের সামনে বলতে পেরেছিলেন এবং উপলব্ধি করেছিলেন যে তাঁদের আধ্যাত্মিক যাত্রা একাকী ও নিঃসঙ্গ হওয়ার প্রয়োজন নেই।
“…একই রকম উদ্যম ও শক্তিসম্পন্ন, জীবনের একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হওয়া একদল তরুণের একসঙ্গে মিলিত হওয়ার এই ধারণাটি সত্যিই মুগ্ধকর ছিল।”
— কে. এস.,চণ্ডীগড়
তরুণ ভক্তরা শিবিরের যে বহু উপকারিতা অনুভব করেছিলেন, তা ছিল ওয়াইএসএস সন্ন্যাসীদের পরিচালনায় ধ্যানের প্রক্রিয়ার পুনরালোচনা যা বিশেষভাবে উপকৃত করেছিল তাঁদের, যারা সম্প্রতি যোগদা সৎসঙ্গ পাঠমালা-তে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। ভক্তেরা তাঁদের অনুশীলন করা প্রক্রিয়ার বিষয়ে সন্ন্যাসীদের থেকে পরামর্শ ও মতামত গ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
“আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে আমি অনুশীলনগুলি সঠিকভাবে করছি কি না। এই শিবিরে সন্ন্যাসীদের কাছে প্রশ্ন করার এবং তাঁদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পেয়েছি। আর সবার সঙ্গে একাত্মতার যে অনুভূতি পেয়েছি, সেটিই ছিল এর বাড়তি পাওনা।”
— এম. এস., কর্ণাটক
শ্রবণ ও সৎসঙ্গ: অধ্যয়ন ও সৎসঙ্গ
প্রতিদিন সকালে, অংশগ্রহণকারীরা দলবদ্ধভাবে বসে ওয়াইএসএস পাঠমালা ১৫: সুষম আধ্যাত্মিক জীবনযাপনের উপায়, থেকে নির্বাচিত অংশ নীরবে অধ্যয়ন করতেন। এই শ্রবণ ছিল গুরুদেবের শিক্ষার অধ্যয়নের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সাযুজ্য স্থাপনের এক সাধনা।
সাধকেরা গভীর নীরবতার মধ্যে সেই জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে আত্মস্থ করার চেষ্টা করতেন। এরপর তাঁরা নিজেদের উপলব্ধ সত্যকে সেদিনই কীভাবে জীবনে প্রয়োগ করবেন, তা পরস্পরের সঙ্গে আদানপ্রদান করে নিতেন।
“শ্রবণ আমাদের সাধনার আরও গভীর ও নিবিড় তাৎপর্য উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে।”
— পি. এম., বেঙ্গালুরু
যে নিঃসঙ্গতা তরুণ সাধকদের মনকে প্রায়ই আচ্ছন্ন করে রাখে, সৎসঙ্গ বা পারস্পরিক সান্নিধ্যের উষ্ণতায় তা যেন মিলিয়ে গেল। পরিকল্পিত শিবির-পর্বগুলির মধ্যবর্তী সময়ে একসঙ্গে গাড়িতে যাতায়াত, নীরব সন্ধ্যার রাস্তায় ছোট ছোট পথচলা কিংবা ধীরগতির বাসযাত্রার মতো স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্তগুলির মধ্য দিয়ে গড়ে উঠল আজীবনের বন্ধন।
একজন ভক্ত এই অনুভূতিকে সংক্ষেপে প্রকাশ করেছেন এই কথায়:
“[শিবিরে ] মনে হয় যেন আপনি ঘরেই ফিরে এসেছেন।”
— কে.এ.,চণ্ডীগড়
পুরুষ ও প্রকৃতি: নিভৃতাবাসের এক আদর্শ পরিবেশ
‘বাইরে বেড়ানোর দিন’ সপ্তাহান্তের শিবিরের কার্যক্রম খোলা আকাশের নীচে স্থানান্তরিত হয়েছিল— ধ্যানকক্ষের সীমানা ছাড়িয়ে আধ্যাত্মিক সাধনাকে নিয়ে যাওয়া।
বেঙ্গালুরুতে: তরুণ সাধকেরা বাইরের মনোরম প্রাকৃতিক উদ্যানের এক সুন্দর পরিবেশে সমবেত হয়েছিলেন। বৃক্ষ ছায়াতলে তাঁরা ধ্যান ও কীর্তন করেন। তৃণভূমিতে বসে ওয়াইএসএস সন্ন্যাসীদের সঙ্গে তাঁরা এক ঘরোয়া ও অকপট প্রশ্নোত্তর পর্বেও অংশ নেন।.
চণ্ডীগড়ে: সাধকেরা ১০০ একর জুড়ে বিস্তৃত মনোমুগ্ধকর ধিলোঁ খামারে গিয়েছিলেন। নিখুঁতভাবে পরিচর্যা করা উদ্যানের মাঝে নির্মল আনন্দের মুহূর্তগুলির সঙ্গে ঈশ্বরচিন্তাকে মিলিয়ে নিয়ে তাঁরা পদচারণা করেছেন, ভলিবল খেলেছেন এবং আনন্দে হেসেছেন।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে, সাধকেরা সন্ন্যাসীদের সঙ্গে দ্রুত গতিতে জপ করতে করতে হাঁটতে লাগলেন। শারীরিক ব্যায়াম ও গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে ঈশ্বরের নামের নীরব, ছন্দময় পুনরাবৃত্তিকে যুক্ত করে তাঁরা আসন্ন রাতের জন্য মন ও শরীরকে প্রস্তুত করে নেন।
“পিকনিকের জায়গাটি অসাধারণ ছিল। সেই প্রাকৃতিক পরিবেশে সকলে মিলে কীর্তন করা এবং সন্ন্যাসীদের প্রশ্নের উত্তর শুনতে পাওয়া যেন এক ঐতিহ্যবাহী গুরু-শিষ্য অভিজ্ঞতার মতো মনে হয়েছিল।”
— এস. বি., মুম্বাই
প্রেমের এক অপার প্রকাশ
সমাপনী অনুষ্ঠানে ধ্যান ও কীর্তনের সময় হারমোনিয়ামের সুর জেগে উঠল এবং করতালের ছন্দময় ঝংকার শুরু হল। সমগ্র পরিবেশ ভরে উঠল ভক্তির এক অনস্বীকার্য, ঐক্যবদ্ধ স্পন্দনে। সন্ন্যাসীরা সমবেত ভক্তদের সঙ্গে নিয়ে কীর্তন পরিচালনা করলেন।
“সন্ন্যাসীরা কত সুন্দরভাবে কথা বলতে ও শিক্ষা দিতে পারেন, কিন্তু কীর্তনের সময় তাঁদের ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা ও ভক্তি সত্যিই প্রকাশ পায়। সেই সময় তাঁদের ধ্যানসাধনার মাধ্যমে অর্জিত অমূল্য সম্পদ তাঁরা অকাতরে সকলের মধ্যে বিলিয়ে দেন।”
— এস. ডি.,চণ্ডীগড়
যখন সংগীতটি অবশেষে নীরবতায় মিলিয়ে গেল, তখন সেই স্থিরতা ছিল গভীর ও মধুর। অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের ধ্যানের আসনে স্থির হয়ে বসে রইলেন, সদ্য-আবিষ্কৃত সেই গভীর শান্তিকে ভেঙে দিতে যেন কারও মন চাইছিল না।
শিবির শেষ হয়েছে, ব্যাগ গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে আর তরুণ সাধকেরা ফিরে গেছেন তাঁদের কর্মক্ষেত্র, শ্রেণিকক্ষ ও ঘরে। কিন্তু তাঁরা ফিরে গেছেন এক নতুন রূপে। তাঁরা সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন সম্যক জীবনযাপনের একটি পথনকশা, আত্মিক বন্ধুদের এক বিস্তৃত পরিমণ্ডল এবং নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া এক গভীর আশ্বাস — শান্তি কোনো অধরা স্বপ্ন নয়; নিয়মিত সাধনার মাধ্যমে তা অন্তর থেকেই প্রস্ফুটিত হয়।
তরুণ সাধক সম্প্রদায়ে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ
আপনি যদি ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি একজন ওয়াইএসএস ভক্ত হন এবং সারা ভারতের অন্যান্য তরুণ সাধকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে চান, তাহলে নীচে দেওয়া তরুণ সাধকদের অংশগ্রহণের ফর্মটি পূরণ করার জন্য আমরা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এর মাধ্যমে আপনি এই সম্প্রদায়ের জন্য আয়োজিত আসন্ন অনলাইন ও অফলাইন আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানগুলির খবরাখবর পেতে থাকবেন। একজন স্বেচ্ছাসেবক আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী পদক্ষেপগুলির বিষয়ে আপনাকে পথনির্দেশ করবেন।



















