পরমহংস যোগানন্দের জন্মস্থান গোরক্ষপুরে ওয়াইএসএস তাঁর জন্মোৎসব উদযাপন করছে

২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

শ্রীশ্রীপরমহংস যোগানন্দের ১৩৩ তম আবির্ভাব দিবস (জন্মোৎসব) ৫ জানুয়ারি ২০২৬, তাঁর জন্মস্থান ভারতের উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর শহরে উদযাপিত হয়। সমগ্র দেশ থেকে আগত সেল্ফ-রিয়লাইজেশন ফেলোশিপ (এসআরএফ) ও যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার (ওয়াইএসএস) এর সন্ন্যাসীবৃন্দ, ওয়াইএসএস ভক্ত ও অনুরাগীবৃন্দ সকালের অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

সুসজ্জিত পালকিতে গুরুদেব শ্রীশ্রীপরমহংস যোগানন্দের প্রতিচ্ছবি।
১২০ জনেরও অধিক ভক্তবৃন্দের সাথে সাথে এসআরএফ-এর সন্ন্যাসিনীবৃন্দ সুসজ্জিত পালকি বহন করে চলেন।

পরমহংস যোগানন্দের জন্মস্থানের পথজুড়ে প্রভাতফেরির (শোভাযাত্রা) সাথে সাথে এই বিশেষ দিন উদযাপন শুরু হয়। এসআরএফ সন্নাসিনীবৃন্দ পরমহংস যোগানন্দের এক বিরাট রঙিন প্রতিচ্ছবি রাখা সুন্দরভাবে অলংকৃত পুষ্পমণ্ডিত পালকি বহন করেছিলেন। গুরুদেবের পবিত্র জন্মস্থানের কাছাকাছি পৌঁছে নিরন্তর আনন্দময় “জয়গুরু” ধ্বনির সাথে প্রায় ১২৫ জন ভক্ত ও অনুরাগীর এই শোভাযাত্রা পথ জুড়ে প্রসারিত হয়েছিল।

স্বামী বিশ্বানন্দ ভক্তবৃন্দের সাথে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।
এসআরএফ-এর সন্ন্যাসিনী ও ব্রহ্মচারিণীগণ ভজনে অংশগ্রহণ করেন।

রাজ্য সরকারের উদ্যোগে জমি অধিগ্রহণ ও এখানে মহাগুরুর জীবন ও কর্মকে শ্রদ্ধা জানাতে একটি মন্দির নির্মাণের কথা গতবছর জনসাধারণের জন্য ঘোষণার পরে, এই প্রথমবার গুরুদেব পরমহংস যোগানন্দের জন্মস্থানে সর্বজনীনভাবে জন্মোৎসব উদযাপন করা সম্ভব হয়। যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া এই মন্দিরটির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করবে। নির্মাণকার্য সম্পন্ন হলে এই মন্দিরটি পরমহংস যোগানন্দের ভক্ত ও অনুরাগীদের জন্য এক সুন্দর তীর্থক্ষেত্র হয়ে উঠবে। এই ক্ষেত্রে অবস্থিত আদি বাসগৃহ থেকে সংগৃহিত ইট আংশিকভাবে ব্যবহার করে এখানে একটি বিশেষ মন্দিরকক্ষ, একটি মিউজিয়াম; একটি অডিও/ভিডিও প্রদর্শনী কক্ষ এবং একটি বৃহৎ ধ্যানকক্ষ নির্মিত হবে।

প্রভাত ফেরির পরে এক ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে ১৫০ জন ভক্ত এবং ৭৫ জন অতিথি ও দর্শনার্থী সহ প্রায় ২৫০ জন শ্রোতা উপস্থিত ছিলেন। কয়েকজন বরিষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। এই বিশেষ অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য একটি সুসজ্জিত মণ্ডপ তৈরী করা হয়েছিল।

স্বামী বিশ্বানন্দ আরতি সম্পাদন ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

আমাদের প্রিয় গুরুদেবের উদ্দেশ্যে বরিষ্ঠ সন্ন্যাসী স্বামী বিশ্বানন্দ গিরির আরতির সাথে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর এসআরএফ-এর ব্রহ্মচারীবৃন্দ ভজন পরিবেশন করেন। তারপর স্বামী বিশ্বানন্দ সমবেত ভক্তদের উদ্দেশ্যে ভাষণে এই পবিত্র স্থানে পরমহংসজির ১৩৩ তম জন্মোৎসব পালনের আনন্দ জ্ঞাপন করেন। ওয়াইএসএস/এসআরএফ অধ্যক্ষ ও আধ্যাত্মিক প্রধান স্বামী চিদানন্দ গিরি, ওয়াইএসএস/এসআরএফ সন্নাসীবৃন্দ এবং মহান গুরুদেবের বিশ্বজনীন পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি এই গোরক্ষপুর অনুষ্ঠানের জন্য সার্বজনিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি এই স্থানে যোগানন্দের স্মৃতিমন্দির স্থাপনের সিদ্ধান্তের জন্য উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকেও ধন্যবাদ জানান। গুরুদেবের জন্মভবনের আদি রূপের এবং বর্তমানে নির্মীয়মান মন্দিরের চিত্রাবলীর বিরাট রঙিন পোস্টার তিনি সকলকে দেখান এবং উপস্থিত সকলের মাঝে জয়ধ্বনির সাথে তা বন্দিত হয়।

মহাগুরু যে বাড়িতে জন্ম নিয়েছিলেন, সেই মূল বাড়িটি ও তৈরী হতে যাওয়া নুতন মন্দিরটির চিত্রাবলীর পোস্টার স্বামী বিশ্বানন্দ সকলকে দেখান।

এরপর ভারতে আধ্যাত্মিক তীর্থযাত্রায় আসা দুইজন এসআরএফ সন্ন্যাসিনী রঞ্জনামাতা ও যোগময়ীমাতা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তাঁরা ওয়াইএসএস/এসআরএফ থেকে প্রকাশিত অটোবায়োগ্রাফি অফ এ য়োগি এবং মেজদা থেকে গোরক্ষপুরে পরমহংস যোগানন্দের শৈশবের আট বছরের কিছু অনুপ্রেরণামূলক অনুচ্ছেদ পরিবেশন করেন। স্বামী বিশ্বানন্দ উল্লেখ করেন সুপ্রাচীন কাল থেকে ভারত মানবের আত্মোন্নতির জন্য আত্মোৎসর্গ করা অসংখ্য মহাত্মার মাতৃভূমি। গোরক্ষপুরে জন্মগ্রহণ করা পরমহংস যোগানন্দ ছিলেন তাঁদের মধ্যে একজন। স্বামী বিশ্বানন্দ মহাগুরুর প্রত্যক্ষ শিষ্যা এবং তাঁর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ওয়াইএসএস/এসআরএফ সংস্থার ৫০ বছরেরও অধিক সময়ের পূর্বতন অধ্যক্ষ ও সঙ্ঘমাতা, দয়ামাতার এই উক্তিগুলির উল্লেখ করেন:

“আমাদের প্রিয় গুরুদেব এমনই মাটির মানুষ ছিলেন যে তাঁর অটোবায়োগ্রাফীতে তিনি অনেক ঋষিকেই নিজের উপরে স্থান দিয়েছেন। তবে তাঁর দিব্য নির্ধারিত উদ্দেশ্যে তিনি এই যুগের একজন অবতার; তাঁর মত আধ্যাত্মিক মহিমার অধিকারী এই নশ্বর পৃথিবীতে খুব কমই এসেছেন। অনন্তের সাথে একাত্ম হয়ে তিনি শরীরে ছিলেন, চলাফেরা করতেন, তবে তাঁর সত্তা পরমাত্মার মহাসাগরে আবিষ্ট থাকত। তাঁর থেকে নিঃশর্ত প্রেম বিচ্ছুরিত হত; তাঁর প্রজ্ঞা এতটাই সুগভীর ও মহিমান্বিত ছিল যে আমরা, বিস্মিত অভিভূত শিষ্যরা উপলব্ধি করতাম যেন তাঁর মনের ঝর্ণাধারা থেকে বেদের সারবত্তা পান করছি। তাঁর দিব্য শক্তি দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে আত্মবিষ্ট করতে সক্ষম হওয়া সত্বেও, তিনি নিজের ঈশ্বরাবিষ্ট প্রেমের দিব্য শক্তি দিয়ে শুধুমাত্র প্রকৃত ভক্তদের হৃদয়ে ভগবৎপ্রেম জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন।”

ওয়াইএসএস সন্ন্যাসী, সন্ন্যাসিনী, ব্রহ্মচারী এবং ব্রহ্মচারিণীবৃন্দ উপস্থিত ৪০০ জনের অধিক ভক্তবৃন্দের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করেন।

প্রসাদ বিতরণ ও পুষ্পাঞ্জলি (পুষ্প অর্পণ)

বৈকালে ওইস্থানেই এসআরএফ-এর সন্ন্যাসিনী ও ব্রহ্মচারিণীবৃন্দের পরিচালনায় ৫০ জনের অধিক ভক্তবৃন্দের উপস্থিতিতে একঘন্টা সমবেত ধ্যান অনুষ্ঠিত হয়। এই পবিত্র দিনে উপস্থিত সকলে গুরুদেবের উপস্থিতি উপলব্ধি করতে পারার জন্য ঈশ্বর ও গুরুদেবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এই শেয়ার করুন