হিমালয়ের এক মনোরম প্রাঙ্গনে ওয়াইএসএস গ্রীষ্মকালীন শিবিরের পরিচালনা করে
(শিশু এবং কিশোরদের জন্য, ৩১ মে – ৬ জুন, ২০২৬)

১০ জুলাই, ২০২৬
স্বামী ললিতানন্দ মঙ্গলদীপ প্রজ্বলন করে শূলিনী ইউনিভার্সিটিতে ওয়াইএসএস গ্রীষ্মকালীন শিবিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
তাঁর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বামী নির্মলানন্দ, শূলিনী ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক প্রেম কুমার খোসলা ও শ্রীমতী সরোজ খোসলা এবং উপাচার্য ড. অতুল খোসলা।

সর্বভারতীয় যুব-সেবা ও প্রসারের একটি নতুন অধ্যায়

ওয়াইএসএস যুব পরিষেবা গত ৩১ মে থেকে ৬ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশের সোলানের শূলিনী ইউনিভার্সিটিতে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ সপ্তাহব্যাপী গ্রীষ্মকালীন শিবিরের আয়োজন করেছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সী শতাধিক ছাত্র তৎসহ শতাধিক ছাত্রী তাদের জন্য নির্ধারিত দুটি পৃথক শিবিরে অংশগ্রহণ করেছিল।

এই শিবিরগুলিতে তিনটি ভিন্ন বয়সের গোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা হয়েছিল। প্রথম গোষ্ঠীটি ছিল জুনিয়রদের জন্য (১১–১৩ বছর)। দ্বিতীয় গোষ্ঠীটি ছিল মধ্য-কিশোরদের জন্য (১৪–১৫ বছর)। তৃতীয় গোষ্ঠীতে ছিল সিনিয়রদের জন্য (১৬–১৭ বছর)। প্রতিটি বয়সের গোষ্ঠীর নিজস্ব চাহিদা রয়েছে। সেই চাহিদাগুলি পূরণের কথা মাথায় রেখেই শিবিরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি, ১৮-২৩ বছর বয়সী তরুণ সাধকদের সহকারী দলনেতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যাতে তারা ভবিষ্যতে আরও বড় দায়িত্বপূর্ণ সেবামূলক পদে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে।

গুরুদেব শ্রীশ্রী পরমহংস যোগানন্দজির ‘সম্যক জীবনযাপন’ শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে, এই শিবিরে শরীর, মন ও আত্মার সুষম বিকাশের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। আধ্যাত্মিক নিত্যকর্ম ও শৃঙ্খলা ছিল এই শিবিরের মূল বৈশিষ্ট্য, যেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় সম্মিলিতভাবে ‘শক্তিসঞ্চার ব্যায়াম’ এবং ধ্যানের অভ্যাসের ওপর বিশেষ আলোকপাত করা হয়।

ওয়াইএসএস সন্ন্যাসীবৃন্দ এবং অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দ্বারা পরিচালিত সম্যক জীবনযাপন শিক্ষার ক্লাসগুলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল যেমন ভয়কে জয় করা, একাগ্রতা, ইচ্ছাশক্তি, বন্ধুত্ব ও অন্তর্দৃষ্টির মতো ব্যবহারিক বিষয় এবং বয়সোপযোগী দলগত আলোচনার মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলি উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। এই ক্লাসগুলির সমাপ্তি ঘটেছিল সন্ন্যাসীদের পরিচালনায় ওয়াইএসএস-এর ধ্যান প্রক্রিয়ার নির্দেশাবলীর মাধ্যমে, যেখানে উপযুক্ত শিবিরের অংশগ্রহণকারীরা মহাজাগতিক শক্তির দ্বারা শরীরে শক্তিসঞ্চার করার প্রক্রিয়া, হং-স প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মনকে একাগ্র করা এবং ওম ধ্যান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঈশ্বরের সাথে সংযোগ স্থাপন শিখেছিল।

অভিভাবকদের প্রশংসাপত্র

কৃতজ্ঞ অভিভাবকেরা শূলিনী ইউনিভার্সিটির গ্রীষ্মকালীন শিবিরে তাঁদের সন্তানদের জীবন কীভাবে রূপান্তরিত হয়েছে, সেই বিষয়ে ওয়াইএসএস-এর কাছে অসংখ্য বার্তা পাঠিয়েছেন। নীচে তার কয়েকটি তুলে ধরা হল:

শিবিরের ভিডিও হাইলাইটস

প্রকৃতির এক মনোরম পটভূমি

হিমালয়ের পাদদেশে শিভালিক পর্বতশ্রেণী দ্বারা পরিবেষ্টিত, শূলিনী ইউনিভার্সিটির ২৫ একর বিস্তৃত সুবিশাল ক্যাম্পাসটি মনোরম হাইকিং ট্রেইল (পাহাড়ি পথ) এবং পাইন বনে ঘেরা। এই ক্যাম্পাসটি সুন্দর দৃশ্য, মনোরম ঠান্ডা আবহাওয়া এবং এক শান্তিময় পরিবেশ প্রদান করে। এই অনুপ্রেরণাদায়ী প্রাকৃতিক পরিবেশ শিবিরার্থীদের অভিজ্ঞতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল, যা তাদের আনন্দময় শিক্ষা এবং প্রকৃতির মাঝে ঈশ্বরের উপস্থিতির এক গভীর উপলব্ধি গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল।

বালক ও বালিকাদের জন্য দুটি পৃথক শিবির

বালকদের শিবির

ওয়াইএসএস/এসআরএফ অধ্যক্ষের বার্তা

অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছিল ওয়াইএসএস/এসআরএফ-এর অধ্যক্ষ এবং আধ্যাত্মিক প্রধান শ্রীশ্রী স্বামী চিদানন্দ গিরিজির একটি অনুপ্রেরণাদায়ী বার্তা দিয়ে, যা পাঠ করে শোনান এবং ব্যাখ্যা করেন প্রবীণ ওয়াইএসএস সন্ন্যাসী স্বামী ললিতানন্দ গিরি (নীচে দেখুন)

কিশোরদের আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ

সমবেত ধ্যান এবং প্রক্রিয়ার পর্যালোচনা ক্লাস

দিনে দুবার সমবেতভাবে শক্তিসঞ্চার ব্যায়াম এবং ধ্যানের অনুশীলনের মাধ্যমে বালকদের শিবিরের প্রতিটি দিনের শুরু এবং সমাপ্তি হতো।

স্বামী নির্মলানন্দ শক্তিসঞ্চার ব্যায়ামের উপর একটি পর্যালোচনা ক্লাস পরিচালনা করছেন।
স্বামী শংকরানন্দ একটি বহিরাঙ্গন ধ্যানের পরিচালনা করছেন।

সম্যক জীবনযাপন ক্লাস

স্বামী ললিতানন্দ এবং স্বামী নির্মলানন্দ ইউনিভার্সিটির সেমিনার হলে “স্বজ্ঞা” এবং “নির্ভীকতা” বিষয়ের উপর বিভিন্ন পারস্পরিক কথোপকথনমূলক ক্লাস পরিচালনা করেছিলেন। এর অতিরিক্ত, অভিজ্ঞ দলনেতা অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ, যেমন “ইচ্ছাশক্তি” নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করেছিলেন।

দৈনিক আত্মবিশ্লেষণ

শিশুরা ডরমিটরির কক্ষে গুরুকথা (ওয়াইএসএস-এর ছয়জন গুরুর জীবনকাহিনী), গীতাপাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহড়া এবং আত্মবিশ্লেষণ (একটি আত্মবিশ্লেষণ চার্টের সাহায্যে) দলগত আসরের মধ্য দিয়ে তাদের প্রতিদিনের কার্যক্রম সমাপ্ত করত। এই প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য ছিল নবীন মনে তাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি দিককে আধ্যাত্মিক ভাবধারায় আপ্লুত করার পদ্ধতিগুলি গেঁথে দেওয়া।

বাবাজির গুহা

শিশুদের একটি প্রিয় কাজ ছিল বনের একটি নিভৃত কোণে “বাবাজির গুহা” দর্শন করা, যেখানে মহাবতার বাবাজির একটি আবক্ষ বা পূর্ণাঙ্গ আকারের একটি প্রতিমূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল।

কিশোর-কিশোরীরা সংকীর্তন ও ধ্যান করছে এবং একে অপরকে তাদের
প্রিয় মহাবতার বাবাজির গল্পগুলি শোনাচ্ছে।
কিশোরদের একটি দল “বাবাজির গুহা” প্রাঙ্গণে আধ্যাত্মিক বন্ধুত্বের আনন্দময় সময় উপভোগ করছে।

শিক্ষামূলক ও চিত্তবিনোদনমূলক কার্যক্রম

বালকদের শিবিরে নানা ধরনের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল যা শিশুদের এবং কিশোরদের আনন্দের সাথে যুক্ত রাখার সঙ্গে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও আত্ম-বিশ্লেষণের বোধ জাগ্রত করেছিল।

ক্যাম্পাস সফর

ক্যাম্পাস সফর কিশোরদের আধুনিক বিজ্ঞান জগতের এক আকর্ষণীয় ঝলক দেখার সুযোগ করে দেয়।

খেলাধুলা ও ক্রীড়া

ছেলেদের খেলাধুলার মধ্যে টেবিল টেনিস, ক্রিকেট, ফুটবল এবং অন্যান্য খেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বনভ্রমণ

বনের পাহাড়ি পথে হাইকিং করা তরুণদের মধ্যে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় কার্যক্রম ছিল।

বৃক্ষরোপণ অভিযান

শিবিরার্থীরা বনে বৃক্ষরোপণ করা দারুণ উপভোগ করেছে, যেখানে প্রতিটি চারার সাথে তাদের নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছিল যাতে আগামী বছর শিবিরে এসে তারা তাদের লাগানো গাছের বৃদ্ধি পরীক্ষা করে দেখতে পায়।

বেকিং

কিশোররা ইউনিভার্সিটির ‘ফুড ল্যাব’-এ বেকিং করার প্রক্রিয়া শিখছে।

চারুকলা ও হস্তশিল্প

ছেলেরা সুন্দরভাবে সাজানো ফটো ফ্রেম তৈরি করেছিল...
...এবং সেগুলোতে তাদের নিজস্ব দলের ছবি যুক্ত করেছিল।

ঘরোয়াভাবে গোষ্ঠীতে ভোজন

ঘরোয়া পরিবেশ তৈরি করতে ৯ জন শিবিরার্থী এবং ৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক দলনেতা নিয়ে গঠিত প্রতিটি দল প্রতিদিন তিন বেলা একসাথে আহার করত। যোগিক নীতি অনুসরণ করে তারা নীরবতা বজায় রেখে আহার গ্রহণ করত এবং একই সাথে একে অপরকে আহার পরিবেশন ও পরে পরিচ্ছন্নতার কাজে সাহায্য করত।

স্বামী নির্মলানন্দ আহারের পূর্বে কিশোরদের প্রার্থনা পরিচালনা করছেন।
শিবির চলাকালীন শিশুদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে অত্যন্ত ভালোবাসার সাথে
বিভিন্ন ধরনের বিশেষ সাত্ত্বিক খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল।

সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক উৎসব

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

শিবিরার্থীরা গুরুদেবের শিক্ষার গল্পের উপর আধারিত বিভিন্ন নাটিকা নিয়ে একটি বৈকালিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। এই কর্মসূচিতে হরেক রকমের বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে কসমিক চ্যান্টস-এর একটি সমবেত পরিবেশনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল (নীচে দেখুন)। 

আধ্যাত্মিক মেলা

শিবিরের শেষ দিনে, দলনেতারা উচ্চতর দ্বাপর যুগের জীবনযাত্রাকে ফুটিয়ে তোলার জন্য একটি সৃজনশীল অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। শিশুরা স্বজ্ঞা, মনস্তত্ত্ব পাঠ , স্মৃতিশক্তি এবং দলগত সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন খেলায় অংশ নেয়। আধ্যাত্মিক মেলাটি অত্যন্ত সফল হয়েছিল!

শিশুরা একটি খেলায় গভীরভাবে মগ্ন রয়েছে।
এসআরএফ থেকে আগত স্বামী নিষ্ঠানন্দ
কিশোরদের সাথে আধ্যাত্মিক মেলায় অংশগ্রহণ করছেন।

প্রশংসাপত্র

বালিকাদের শিবির

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় স্বামী ললিতানন্দ ওয়াইএসএস/এসআরএফ-এর অধ্যক্ষ এবং আধ্যাত্মিক প্রধান শ্রীশ্রী স্বামী চিদানন্দ গিরির একটি অনুপ্রেরণাদায়ী বার্তা পাঠ করে শোনাচ্ছেন।

কিশোরীদের আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ

সমবেত ধ্যান এবং প্রক্রিয়ার পর্যালোচনা ক্লাস

দিনে দুবার সমবেতভাবে শক্তিসঞ্চার ব্যায়াম এবং ধ্যানের অনুশীলনের মাধ্যমে বালিকাদের শিবিরের প্রতিটি দিনের শুরু এবং সমাপ্তি হতো।

স্বামী ললিতানন্দ মহাজাগতিক শক্তির দ্বারা শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করছেন
শক্তিসঞ্চার ব্যায়াম-এ যেভাবে শেখানো হয়েছে।
‘হং-স’ ধ্যান প্রক্রিয়ার পর্যালোচনা ক্লাসের আগে প্রার্থনা করছেন স্বামী শংকরানন্দ

‘সম্যক জীবনযাপন’ ক্লাস

কিশোর-কিশোরীদের আলোচনা পরিচালনায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকেরা বন্ধুত্ব, ইচ্ছাশক্তি ও করুণা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর ঘরের ভেতরে ও বাইরে উভয় পরিবেশেই পাঠদান করেছেন (যেমন নীচে দেখানো হয়েছে)

বাবাজির গুহা

বালিকাদের হোস্টেল প্রাঙ্গণে স্বতন্ত্রভাবে তাদের ব্যবহারের জন্য একটি পৃথক “বাবাজির গুহা” তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে দলনেতারা তাদের ভক্তিগীতি, ধ্যান এবং গল্প বলার আসর পরিচালনা করতেন।

শিক্ষামূলক এবং চিত্তবিনোদনমূলক কার্যক্রম

বালিকাদের শিবিরেও নানা ধরনের কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত ছিল যা শিশুদের এবং কিশোরীদের আনন্দের সাথে যুক্ত রাখা তৎসহ তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও আত্ম-বিশ্লেষণের বোধ জাগ্রত করেছিল।

ক্যাম্পাস সফর

ক্যাম্পাস সফরের সময়, তরুণ-তরুণীদের বিজ্ঞান ও শিল্পকলার বিভিন্ন গবেষণামূলক
ক্ষেত্রের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

খেলাধুলা ও ক্রীড়া

বালিকাদের খেলাধুলার মধ্যে ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল, থ্রোবল এবং ফ্রিসবি-র পাশাপাশি
আরও অনেক ধরনের ঘরোয়া খেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বনভ্রমণ

কিশোর-কিশোরীরা মনোরম পাহাড়ি পথে বনভ্রমণে অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ধ্যান এবং বনভোজনের ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বেকিং

মেয়েরা ‘ফুড ল্যাব’-এ কুকিজ বেকিং করার পদ্ধতি শিখছে।

চারুকলা ও হস্তশিল্প

ইউনিভার্সিটির আবাসিক শিল্পীর তত্ত্বাবধানে পাথরে রঙ করা পর্বের আয়োজন করা হয়েছিল। শিবিরার্থীরা তাদের নিজেদের রঙ করা পাথর…

…এবং অন্যান্য চারুকলা ও হস্তশিল্পের নকশা প্রদর্শন করছে।

ঘরোয়া পরিবেশে গোষ্ঠীভোজন

বালকদের শিবিরের মতোই, পারিবারিক পরিবেশ তৈরি করতে ৯ জন শিবিরার্থিনী এবং ৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক দলনেতা নিয়ে গঠিত প্রতিটি দল প্রতিদিন তিন বেলা একসাথে আহার করত। যোগিক নীতি অনুসরণ করে তারা নীরবতা বজায় রেখে আহার করত এবং একই সাথে একে অপরকে আহার পরিবেশন ও পরে পরিচ্ছন্নতার কাজে সহায়তা করত।

মেয়েরা ঘরোয়াভাবে গোষ্ঠীভোজনে নীরবতার সাথে সুস্বাদু খাবার উপভোগ করছে।
খাবারের টেবিলে একে অপরকে পরিবেশন করতে শেখা এবং বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে তোলা।

সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক উৎসব

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

শিবিরের শেষ দিনে বালিকাদের দ্বারা একটি চমৎকার কোরিওগ্রাফি করা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।

আধ্যাত্মিক মেলা

বালকদের শিবিরের দলনেতারা যেখানে একটি ভবিষ্যৎমুখী দ্বাপর যুগের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, সেখানে বালিকাদের শিবিরের দলনেতৃরা শিবিরার্থিনীদের নিয়ে গিয়েছিলেন শেষ অবরোহী দ্বাপর যুগের পটভূমিতে—ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সময়ে। গোপিনী ও গোপিকাদের সাজে সজ্জিত হয়ে শিবিরার্থিনীরা সহজ-সরল কিছু খেলা খেলেছিল এবং এক আনন্দময় ভক্তিপূর্ণ ‘রাসলীলা’ পুনরাভিনয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি করেছিল।.

শিবিরার্থিনীদের অভিজ্ঞতা ও প্রশংসাপত্র

para-ornament

সমাপনী অনুষ্ঠানের এক বিশেষ অতিথি

ওয়াইএসএস -এর প্রবীণ সন্ন্যাসী স্বামী স্মরণানন্দ বালকদের এবং বালিকাদের—উভয় শিবিরেরই সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে তিনি খোসলা পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সংবর্ধনা জানান, কারণ তাদের সদয় সহযোগিতায় ইউনিভার্সিটি, এর সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মীদের সাহায্য পাওয়ার ফলেই এই দুটি ওয়াইএসএস শিশু ও কিশোর শিবির একসাথে সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছিল।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময়, তিনি শিবিরার্থীদের জন্য একটি শিক্ষণীয় বার্তা দেন যা তাদের ঈশ্বর প্রদত্ত সুযোগগুলির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে এবং একটি সুখী ও সফল জীবনযাপন করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। একটি আপেলের বীজ তুলে ধরে স্বামী স্মরণানন্দ শিবিরার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ঠিক যেভাবে একটি ছোট বীজ থেকে একটি বিশাল গাছ তৈরি হয় যা প্রচুর ফল দেয়, তেমনি তাদের জীবনও যেন নিজেদের এবং সমাজের জন্য ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে।

স্বামী স্মরণানন্দ খোসলা পরিবারকে সংবর্ধনা দিচ্ছেন...
...এবং তাঁর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে শিবিরার্থীদের অনুপ্রাণিত করছেন।

গুরুর সুরক্ষাকবচ

শিবির শুরু হওয়ার আগের দিনগুলিতে সোলান শহরে বেশ গরম আবহাওয়া ছিল এবং দূরে বনের মধ্যে আগুন লেগেছিল। কিন্তু শিবিরের উদ্বোধনের দিনই মেঘ, বৃষ্টি এবং শীতল বাতাসের রূপ নিয়ে গুরুর সুরক্ষাকবচ উপর থেকে বিস্তৃত হয়েছিল। সারা সপ্তাহ জুড়ে মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টি এবং মেঘলা আকাশের কারণে সমস্ত কর্মসূচি অত্যন্ত মনোরম আবহাওয়ার মধ্যে সম্পন্ন হয়েছিল। আশ্চর্যজনকভাবে, শিবির শেষ হওয়ার ঠিক পরের দিনই সূর্য আবার প্রচণ্ড উত্তাপ নিয়ে প্রখরভাবে উদিত হয়েছিল!

হিমালয়ের এক সুন্দর ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন ক্যাম্পাসে আয়োজিত ওয়াইএসএস-এর এই ঐতিহাসিক শিবিরের বিপুল সাফল্য সম্ভব হয়েছিল স্বেচ্ছাসেবক ও দলনেতাদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং আমাদের মহান গুরুদের দৃশ্য ও অদৃশ্য আশীর্বাদের মাধ্যমে।

শিবিরার্থীদের এই গভীর কৃতজ্ঞতাবোধ নিচের ছবিটিতে ফুটে উঠেছে, যেখানে মেয়েরা একটি সাইন বোর্ডের দিকে নির্দেশ করছে: “ঈশ্বরের কৃপায় সবকিছুই সম্ভব!”

para-ornament

এই শেয়ার করুন