ভূমিকা:
বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ মানুষের নজরে আসুক বা না আসুক, সারাবিশ্ব জুড়েই মানুষ নির্ভীকভাবে নিয়মিত নিঃস্বার্থ ও বিনয়ের সঙ্গে যেখানে অতি প্রয়োজন সেখানে আশার সঞ্চার করে অন্যের সেবা করে।
পরমহংস যোগানন্দ এবং অন্যান্য মহান ঋষিগণ বলেন এই সেবার কাজ আমাদের বিশ্বের সংহতি বজায় রাখতে এবং আত্মার প্রকৃত সত্ত্বার প্রকাশ যা বিকশিত হয়ে ঈশ্বরের সাথে একত্ব প্রকাশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
এই মাসের সংবাদ-সংকলনে আমাদের জীবনে ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে পরমহংসজির প্রদত্ত প্রজ্ঞার ওপর আমরা আলোকপাত করছি।
পরমহংস যোগানন্দের বক্তৃতা ও রচনা থেকে:
সেবাই জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। সেই আদর্শ না থাকলে যে উদ্দেশ্যে ঈশ্বর তোমাকে বুদ্ধিমত্তা দিয়েছেন তা সফল হয় না। অপরের সেবায় মগ্ন থেকে তুমি যখন তোমার ক্ষুদ্র আমিকে ভুলে যাবে, তখন পরমাত্মার বিশালত্ব অনুভব করতে পারবে। সূর্যের সঞ্জীবনী রশ্মি যেমন সবকিছু প্রতিপালন করে, তেমনই যারা দরিদ্র ও পরিত্যক্ত, তাদের মনে তুমি আশার আলো ছড়িয়ে দেবে, যারা হতাশ হয়ে পড়েছে তাদের সাহস জোগাবে আর যারা মনে করে যে তারা ব্যর্থকাম, তাদের হৃদয়ে নব শক্তিসঞ্চার করে দেওয়া তোমার কর্তব্য।
আত্মা তখনই সন্তুষ্ট হয় যখন তা ক্রমাগত প্রসারের সুযোগ পায়। পরোপকারের নীতিটি পূরণ করা হলে, সেটি আর একটি নীতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক পদক্ষেপ হয়, যা আমাদের ঈশ্বরচেতনার প্রসারনকে পরিচালিত করে: আর এই নীতিটি হল বন্ধুত্ব।
অপরের জন্যে কল্যাণকামী চিন্তা যখনই করো, তোমার চেতনা প্রসারিত হয়। যখন তোমার প্রতিবেশীর কথা চিন্তা করো, তোমার সত্বার একটা অংশ সেই চিন্তার সাথেসাথেই যায়। তবে শুধুমাত্র চিন্তাটুকুই নয়, বরং ওই চিন্তা অনুসারে আচরণ করার জন্য প্রস্তুত হওয়াও প্রয়োজন।
সকল মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীদের নিজে স্বতন্ত্রভাবে ভালোবাসতে হবে এমনটা প্রয়োজনীয় নয়। তোমার সাথে সাক্ষাৎ হবে এমন সকল প্রাণীর ওপর বন্ধুত্বপূর্ণ সেবার আলোক ছড়িয়ে দেবার জন্য সর্বদা নিজেকে তৈরী করাটাই তোমার জন্য প্রয়োজনীয়। এই মানসিকতার জন্য অবিরাম মানসিক প্রচেষ্টা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন: অন্যভাবে বললে নিঃস্বার্থপরতা।
পরের সেবাই হল মুক্তিলাভের পথ । সুখ লাভের উপায় হল ধ্যান করা ও পরমপিতার সাথে ঐক্যে যুক্ত থাকা। অন্যের জন্য প্রেমে তোমার হৃদয় স্পন্দিত হতে দাও, তোমার মনকে অন্যের প্রয়োজন অনুভব করতে দাও আর তোমার স্বজ্ঞাকে অন্যের চিন্তা অনুভব করতে দাও।
যে সব প্রক্রিয়া অনুশীলন করে তুমি এই বৈষয়িক জগতের দেওয়া নিরাপত্তার মিথ্যা আশ্বাসের প্রতি উদাসীন থেকে ঈশ্বর সান্নিধ্যের আনন্দময় চেতনায় জীবনযাপন করতে পারো, যোগ সেইসব প্রক্রিয়া শিখিয়ে তোমাকে জাগতিক হতাশার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয়, যাতে তুমি সফল, সুখী ও অর্থপূর্ণ এক জীবন উপভোগ করতে সক্ষম হও। যোগের এই শিক্ষা অন্তরের পরিপূর্ণতার এক সুগভীর অনুভূতি এনে দেয়, যা তুমি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অন্যদের সেবার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে স্বেচ্ছায় ভাগ করে নিতে আগ্রহী হও।
যখন তুমি উপলব্ধি করবে যে একদিকে জীবন হল কর্তব্য সম্পন্ন করার এক আনন্দদায়ক লড়াই, আবার সেই সঙ্গে এক বিলীয়মান স্বপ্ন এবং যখন তুমি অপরকে সহানুভূতি ও শান্তি প্রদান করে তাদের সুখী করার আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে থাকবে, ঈশ্বরের চোখে তখন তোমার জীবন সার্থক।
আমাদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী ও সমগ্র বিশ্বকে সহযোগিতা করতে আমরা সবাই পরমহংস যোগানন্দের শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া একাগ্র প্রার্থনা করতে পারি — এটা এক বিস্ময়কর সেবা। আমরা ওয়াইএসএস/এসআরএফ-এর প্রিয় তৃতীয় অধ্যক্ষ ও সংঘমাতা শ্রী দয়ামাতার একটি ভিডিও দেখার জন্য আপনাদের আমন্ত্রণ জানাই, যেখানে তিনি প্রার্থনাকে পরমহংসজি যে গুরুত্ব দিয়েছেন তার বর্ণনা করেছেন এবং অন্যদের জীবনকে উন্নত করতে আমাদের প্রার্থনা কিভাবে খুব সদর্থক প্রভাব ফেলে তার ব্যাখ্যা করেছেন।



















