আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে পরমহংস যোগানন্দের দ্য স্পিরিচুয়াল এক্সপ্রেশন অফ ফ্রেন্ডশিপ — এমন একটি গ্রন্থ যা আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের অন্তর্নিহিত গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্যকে উন্মোচিত করে—এখন ক্রয়ের জন্য উপলভ্য।
যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া/সেল্ফ-রিয়লাইজেশন ফেলোশিপের অধ্যক্ষ ও আধ্যাত্মিক প্রধান স্বামী চিদানন্দ গিরি ২৫ ডিসেম্বর, লস অ্যাঞ্জেলস-এ অবস্থিত এসআরএফ আন্তর্জাতিক সদর দপ্তরে বার্ষিক সন্ন্যাসী আয়োজিত ক্রিসমাস-এর অনুষ্ঠানে দ্য স্পিরিচুয়াল এক্সপ্রেশন অফ ফ্রেন্ডশিপ গ্রন্থটির বিশ্বব্যাপী প্রকাশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। সেই বিশেষ উপলক্ষে স্বামী চিদানন্দজি সরাসরি উপস্থিত এবং অনলাইনে যুক্ত ওয়াইএসএস/এসআরএফ সন্ন্যাসীদের উদ্দেশে পরমহংসজির প্রদত্ত এই গ্রন্থে অনুপ্রেরণার যে সম্পদ আছে তার সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বলেন, “এটি আকারে একটি ছোট বই। কিন্তু গুরুদেবের চেতনা ও জীবনের স্পর্শ যেখানেই রয়েছে, সেখানেই যেমন থাকে, এই গ্রন্থেও বিপুল সম্পদ সন্নিবেশিত রয়েছে!”
গ্রন্থটি তিনটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে রয়েছে সংস অফ দ্য সোল থেকে পরমহংসজির মনোমুগ্ধকর কবিতা “ফ্রেন্ডশিপ,” দ্বিতীয় অংশে রয়েছে বন্ধুত্বের দিব্য স্বরূপ ও আধ্যাত্মিক শক্তি বিষয়ে একটি গভীর ও প্রেরণামূলক প্রবন্ধ। তৃতীয় বা শেষ অংশে উপস্থাপিত হয়েছে কাব্যিক অনুপ্রেরণা “লাভ ইস দ্য ব্রেথ অফ স্পিরিট,” যেখানে স্বামী চিদানন্দজির ভাষায় পরমহংসজি “দিব্য প্রেমের সেই উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতা থেকে কথা বলছেন, যা সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে প্রবাহিত ও পরিব্যাপ্ত।”
ওয়াইএসএস/এসআরএফ অধ্যক্ষ আরও আলোকপাত করেন সেই মহৎ প্রবন্ধটির উৎস ও বিবর্তনের ওপর, যেখান থেকে গ্রন্থটির শিরোনাম নেওয়া হয়েছে এবং যা গ্রন্থের মূল অংশ গঠন করেছে। প্রবন্ধটি প্রথমে ১৯৩০-এর দশকে পরমহংসজি রচনা করেছিলেন এবং ওয়াইএসএস/এসআরএফ পাঠমালার প্রাথমিক একটি সিরিজে প্রকাশিত হয়েছিল। ২০১৯-এ যখন পাঠমালার নতুন পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ প্রস্তুত করা হচ্ছিল, তখন তৎকালীন সভাপতি শ্রী দয়ামাতা ও শ্রী মৃণালিনী মাতা সিদ্ধান্ত নেন যে এই প্রবন্ধটি গোপনীয় গৃহশিক্ষা পাঠক্রমে সীমাবদ্ধ না রেখে যেখানে তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকত, আধ্যাত্মিক বন্ধুত্বের এই সর্বজনীন বার্তাকে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করা উচিত, যাতে তা মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে সর্বাধিক বিস্তার ও প্রভাব ফেলতে পারে। স্বামী চিদানন্দজি আরও উল্লেখ করেন যে ১৯৪৯-এ পরমহংসজি নিজেই এই প্রবন্ধটি পুনরায় পর্যালোচনা করেছিলেন এবং কিছু ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত আলোচনা যোগ করেছিলেন, যা এতদিন কখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে, এই নতুন গ্রন্থে, স্বামী চিদানন্দজি বলেছেন, বিশ্ব এখন লাভ করেছে “আধ্যাত্মিক বন্ধুত্ব, দিব্য বন্ধুত্ব”-বিষয়ে পরমহংস যোগানন্দজির মহৎ প্রবন্ধের প্রামাণ্য উপস্থাপনা।
পাঠকবৃন্দ লক্ষ্য করবেন যে গ্রন্থের তৃতীয় অংশটি প্রতিটি অনুচ্ছেদের গভীর আধ্যাত্মিক চিত্রকল্পকে সমর্থন করার জন্য বিশেষ ও অনন্য অলঙ্করণে সমৃদ্ধ। এটিও শ্রী দয়ামাতা ও শ্রী মৃণালিনী মাতারই পরিকল্পনা ছিল যখন তাঁরা ২০০০ সালে যোগদা সৎসঙ্গ পত্রিকার জন্য এই অনুপ্রেরণামূলক রত্নটি প্রস্তুত করেছিলেন এবং ভবিষ্যতে এটিকে স্থায়ী গ্রন্থরূপে প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন।
স্বামী চিদানন্দজি তাঁর বক্তব্যের উপসংহারে এসআরএফ আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর, মাউন্ট ওয়াশিংটনে শতবর্ষ পূর্তির বছরে এই গ্রন্থ প্রকাশের তাৎপর্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দিব্য বন্ধুত্বের আদর্শ ও ভাবধারা সত্যিই সেই “পুষ্টিদায়ক নীতি,” যা এখানে পরমহংসজির প্রতিষ্ঠিত সন্ন্যাসী সমাজের নিবেদিত সেবার মধ্যে গ্রথিত রয়েছে এবং এখান থেকেই বিশ্বব্যাপী তাঁর কর্মধারা বিস্তার লাভ করেছে। গুরুদেবের সেই বাণী স্মরণ করে তিনি বলেন: “তোমরা যদি ভালোবাসা, সম্প্রীতি, সদয়ভাব ও বিনয়ের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ কর, তবে এই কর্ম বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করবে।”
“পরমহংসজি প্রায়ই চিন্তা করে বলতেন যে এই ভৌত জগতে ঈশ্বরের প্রেমের সবচেয়ে নির্মল প্রকাশ প্রকৃত বন্ধুত্বের মধ্যেই দেখা যায়,” স্বামী চিদানন্দজি পর্যবেক্ষণ করেন, “এই গ্রন্থে বন্ধুত্বের ধারা এত সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আজকের বিশ্ব স্পষ্টতই এই শিক্ষাবলি ও নীতির গভীর প্রয়োজন অনুভব করছে। আর তাই জিশু খ্রিস্টের জন্মোৎসব উদযাপনের সময়, ক্রিসমাসে, এই মনোরম প্রকাশনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই গ্রন্থে আমাদের গুরু বলেছেন: ‘জিশুর এত বিপুল অনুসারী কেন? কারণ তিনি, অন্যান্য মহান গুরু ও অবতারদের মতোই, মানবসেবায় অসাধারণ। বন্ধু আকর্ষণ করতে হলে একজনকে প্রকৃত বন্ধুর গুণাবলি অর্জন করতে হয়।’ এই কথাটিই আমাদের গুরু এই আকারে ছোট হলেও শক্তিশালী গ্রন্থে এত গভীর ও স্মরণীয়ভাবে তুলে ধরেছেন, যা আজ আপনাদের সকলের সঙ্গে প্রকাশ ও ভাগ করে নিতে পেরে আমি ভীষণভাবে আনন্দিত।”
প্রকৃত বন্ধুত্ব: সকলের জন্য এক সর্বজনীন ও ঐক্যবদ্ধ অনুশীলন
এই সুন্দর অলঙ্করণসমৃদ্ধ গ্রন্থে যোগ ও আধ্যাত্মিকতার আধুনিক যুগের অন্যতম শ্রদ্ধেয় মহাপুরুষ সত্যিকারের বন্ধুত্বের অন্তর্নিহিত সর্বজনীন নিয়ম ব্যাখ্যা করেছেন, যা আজ সংঘাতপীড়িত মানবজাতির জন্য এক সময়োপযোগী দিশানির্দেশ। তিনি দেখিয়েছেন যে বন্ধুত্ব যখন তার সর্বোচ্চ ও সর্বোৎকৃষ্ট রূপে অনুশীলিত হয়, তখন তা আমাদের দৈনন্দিন সীমাবদ্ধ চেতনার গণ্ডি ছাড়িয়ে এক বিস্তৃত, সর্বব্যাপী চেতনায় উত্তীর্ণ করতে পারে, যেখানে আমরা অন্যদের সঙ্গে এবং শেষ পর্যন্ত সমগ্র জীবনের সঙ্গে এক ঐক্যবদ্ধ দিব্য আত্মীয়তার অনুভব লাভ করি। তখন আমরা সেই সর্বসমন্বয়ী ও সর্বগ্রহণকারী প্রেমের স্বাদ পাই, যা আত্মার প্রকৃত স্বরূপ।
আলোচ্য বিষয়সমূহ:
- বন্ধুত্বের অব্যর্থ নিয়মসমূহ কীভাবে প্রয়োগ করতে হয়
- পূর্বজন্মের বন্ধুদের চিনে নেওয়া
- যে চুম্বক শক্তি, প্রকৃত বন্ধু আকর্ষণ করে তা বিকশিত করা
- যারা আমাদের ভালোবাসে না, তাদের ভালোবাসার অনুশীলন কীভাবে করা যায়
- …এবং আরও অনেক কিছু!
ধীরে ধীরে তোমার প্রেমের প্রদীপ্ত রাজ্যের সীমানা প্রসারিত কর, তোমার পরিবার, প্রতিবেশী, সমাজ, দেশ, সকল দেশ, সমস্ত জীবিত, সংবেদনশীল সৃষ্টিকে তার অন্তর্ভুক্ত করো। ঈশ্বরের সমগ্র সৃষ্টির প্রতি দয়া ও স্নেহে পরিপূর্ণ এক দিব্য বন্ধু হয়ে ওঠো, সর্বত্র প্রেমের বীজ বপন করো।
— পরমহংস যোগানন্দ, “দ্য স্পিরিচুয়াল এক্সপ্রেশন অফ ফ্রেন্ডশিপ”


















