যোগদা সৎসঙ্গ মঠ — দক্ষিণেশ্বর
ইতিহাস ও ক্রমবিকাশ
উত্তর কলকাতায় গঙ্গার তীরে অবস্থিত যোগদা সৎসঙ্গ মঠ, দক্ষিণেশ্বর হল যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া-র নিবন্ধিত প্রধান কার্যালয়, ১৯১৭-তে পরমহংস যোগানন্দজি এই আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৩৯ -এ যখন এখানে মঠ প্রতিষ্ঠিত হয়, সেই সময় থেকেই এই সুন্দর আশ্রমের সুত্রপাত। মনোরম ও শান্ত পরিবেশে ঘেরা এই ভূ-সম্পত্তি এবং এর সুদৃশ্য ভবনটি পরমহংসজির অত্যন্ত প্রিয় ছিল। ১৯৫১-তে আমেরিকায় অনুষ্ঠিত সেল্ফ-রিয়লাইজেশন ফেলোশিপের বার্ষিক সম্মেলনে, এক বিশাল সমাবেশে পরমহংসজি এক মহান ভবিষ্যৎদর্শনের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন যে, ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিশ্বের নানা দেশ থেকে অসংখ্য ভক্ত একদিন দক্ষিণেশ্বর আশ্রম পরিদর্শনে আসবেন।
বছরের পর বছর ধরে আমাদের প্রিয় ওয়াইএসএস/এসআরএফ-এর প্রয়াত অধ্যক্ষ এবং আধ্যাত্মিক প্রধান, শ্রী দয়ামাতা ও শ্রী মৃণালিনী মাতা-র পবিত্র সান্নিধ্যে এই আশ্রম ধন্য হয়েছে। বহুবার তাঁরা এখানে আগমন করেন এবং ভক্তদের সঙ্গে বিভিন্ন সৎসঙ্গ, সমবেত ধ্যান, ক্রিয়াযোগ দীক্ষা অনুষ্ঠান এবং আধ্যাত্মিক পরামর্শের অধিবেশন পরিচালনা করেন। ওয়াইএসএস/এসআরএফ-এর বর্তমান অধ্যক্ষ ও আধ্যাত্মিক প্রধান শ্রীশ্রী স্বামী চিদানন্দ গিরি-ও এই আশ্রমে এসে ঈশ্বরসন্ধানী ও আধ্যাত্মিক সাধনায় আগ্রহী ভক্তদের কল্যাণের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন।
(বর্তমান অধ্যক্ষ ও আধ্যাত্মিক প্রধান)
আশ্রমের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
প্রায় দুই একর জমির উপর বিস্তৃত দক্ষিণেশ্বর আশ্রমে রয়েছে একটি ফলের বাগান, নানা রকম ফুলের গাছ এবং একটি বড় পুকুর। প্রথমদিকে এটি ছিল একটি বাগান বাড়ি। আশ্রম সম্পর্কে পরমহংসজির প্রত্যাশাকে মনে রেখে ভক্তদের সুবিধার জন্য আশ্রম প্রাঙ্গনে একটি ধ্যানমন্দির, একটি অতিথিশালা, রন্ধনশালা, কাজের জায়গা, ভোজনের জায়গা ইত্যাদি তৈরি করা হয়েছে।
১৯৩৯-এ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই আশ্রম ধীরে ধীরে ঈশ্বরান্বেষী মানুষের জন্য এক শান্তিময় আধ্যাত্মিক আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। আমরা আপনাদের এখানে প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় সমবেত ধ্যানে, প্রতি রবিবারের সাপ্তাহিক সৎসঙ্গে, এবং ওয়াইএসএস -এর সন্ন্যাসীদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন স্মারক ও আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানাই। ওয়াইএসএস ও এসআরএফ-এর ভক্তরা আশ্রমে ব্যক্তিগত অথবা পরিচালিত আধ্যাত্মিক নিভৃতাবাসে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এছাড়াও বিভিন্ন বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সাধনা সঙ্গম, যার মধ্যে দিনে দুবার সমবেত ধ্যান, ওয়াইএসএস-এর ধ্যানপ্রক্রিয়ার পর্যালোচনা এবং ইংরেজি, বাংলা ও হিন্দি ভাষায় আধ্যাত্মিক আলোচনা সহ আরও নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিভিন্ন আধ্যাত্মিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি, ওয়াইএসএস দক্ষিণেশ্বর আশ্রম আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও সীমিত সামর্থ্যের মানুষদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে শিক্ষা, চিকিৎসা এবং অন্যান্য নানা জনকল্যাণমূলক কাজেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। এই সেবামূলক কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কলকাতা ও তার আশপাশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি হোমিওপ্যাথিক ও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসাকেন্দ্র, প্যাথলজি ল্যাবরেটরি, স্কুল ও কলেজ পরিচালনা।
ওয়াইএসএস-এ নতুন?
ওয়াইএসএস পাঠমালা সম্পর্কে আরও জানুন—এটি একটি বাড়িতে বসে পাঠের পাঠমালা, যা আপনার জীবনকে এমনভাবে রূপান্তরিত করতে পারে, যা আপনি হয়তো কখনো কল্পনাও করেননি এবং আপনাকে একটি সমতাপূর্ণ ও সফল জীবনযাপন করতে সাহায্য করে।
কলকাতায় পরমহংস যোগানন্দজির জীবন ও সাধনার সঙ্গে যুক্ত দর্শনীয় স্থানসমূহ
সাধু-সন্ত ও মহাত্মারা যেখানে বাস করেছেন, সেই পবিত্র স্থানগুলি দর্শন করার মধ্যেও গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, যে ভূমিতে দিব্য আত্মারা বিচরণ করেছেন, সেই স্থান তাঁদের ঈশ্বরানুভূতির পবিত্র স্পন্দনে চিরকাল সঞ্জীবিত হয়ে থাকে। তাঁদের সেই দিব্য স্পন্দন যুগের পর যুগ সেখানে বিরাজ করবে—যতদিন পৃথিবী বিলীন না হয়ে যায়, সেই পর্যন্ত। যে স্থানে কোনো মহাত্মা ঈশ্বরের সঙ্গে গভীর সান্নিধ্যে মিলিত হয়েছেন, সেই স্থানে ঈশ্বরের উপস্থিতি যেন বিশেষভাবে অনুভব করা যায়। সেখানে গিয়ে একাগ্রচিত্তে প্রার্থনা ও ধ্যান করলে অন্তরে ঈশ্বরের সান্নিধ্যের আরও গভীর অনুভূতি এবং তাঁর করুণার প্রত্যুত্তর লাভ করা সম্ভব হয়। এমন তীর্থযাত্রা অনেক সময় মানুষের অন্তরকে স্পর্শ করে, তার চিন্তা ও জীবনদৃষ্টিকে পরিবর্তিত করে এবং তাকে আরও পবিত্র, শান্ত ও ঈশ্বরমুখী জীবনের পথে এগিয়ে দেয়।
— পরমহংস যোগানন্দ
পরমহংস যোগানন্দজির এই অমৃতবাণী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা আপনাদের আহ্বান জানাই, এই মহান গুরুর পবিত্র উপস্থিতিতে ধন্য হয়ে ওঠা বিভিন্ন স্থানে এক পবিত্র তীর্থযাত্রায় সামিল হোন। কলকাতার এই পবিত্র শহরেই পরমহংসজি তাঁর জীবনের শৈশব ও কৈশোরের গুরুত্বপূর্ণ বছরগুলি অতিবাহিত করেন। এখানেই তিনি তাঁর গুরু, শ্রীশ্রী স্বামী শ্রীযুক্তেশ্বর গিরিজির কাছে আধ্যাত্মিক শিক্ষায় দীক্ষিত ও প্রশিক্ষিত হন এবং আমেরিকায় যাওয়ার পূর্বে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও সম্পূর্ণ করেন। পরবর্তীকালে তিনি ক্রিয়াযোগের পবিত্র শিক্ষাকে সমগ্র বিশ্বে প্রচার করার উদ্দেশ্যে আমেরিকায় পাড়ি দেন। এই গুরুদায়িত্ব তাঁর গুরুপরম্পরার পক্ষ থেকে অর্থাৎ মহাবতার বাবাজি, লাহিড়ী মহাশয় এবং শ্রীশ্রী স্বামী শ্রীযুক্তেশ্বর গিরিজির পবিত্র গুরুপরম্পরা থেকে তাঁর উপর অর্পিত হয়েছিল।




৪ নং গড়পার রোড ও তার আশপাশের অন্যান্য স্থান
কলকাতার ৪ নং গড়পার রোড ছিল পরমহংস যোগানন্দজির পারিবারিক বাসভবন। সারা বিশ্বের ভক্তদের কাছে এই পবিত্র স্থানটি আজও গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার তীর্থস্থান হিসেবে সমাদৃত। বাড়িটির দোতলার চিলেকোঠার ঘরটি ছিল তাঁর সাধনা ও ঈশ্বরসান্নিধ্য লাভের একান্ত পবিত্র আশ্রয়স্থল। এই ঘরেই তিনি গভীর ধ্যান ও প্রার্থনায় ঈশ্বরের সঙ্গে অন্তরঙ্গভাবে মিলিত হতেন এবং এখানেই তিনি বহু অলৌকিক আনন্দানুভূতি ও দিব্য দর্শন লাভ করেছিলেন।
এর কাছেই রয়েছে ৫০ অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট—শ্রী মাস্টার মহাশয়ের বাসভবন। শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের এই মহান শিষ্যের সঙ্গে পরমহংস যোগানন্দজির গভীর শ্রদ্ধা ও স্নেহের সম্পর্ক ছিল; জীবনের প্রাথমিক দিনগুলিতে তিনি প্রায়ই এখানে আসতেন। এই বাড়িটির সঙ্গে যোগানন্দজির জীবনের আরও একটি গভীর ও বেদনাময় স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তাঁর পরিবার এই বাড়িতেই বসবাস করতেন এবং এখানেই তাঁর মা দেহত্যাগ করেন।
পরমহংস যোগানন্দজির গড়পার রোডের পারিবারিক বাসভবন থেকে প্রায় আধ কিলোমিটার দূরে রামমোহন রায় রোডে অবস্থিত নগেন্দ্র মঠ। এই পবিত্র স্থানেই থাকতেন ভাদুড়ি মহাশয়—যাঁর কথা যোগানন্দজি তাঁর বিখ্যাত আধ্যাত্মিক গ্রন্থ যোগী-কথামৃত -তে “লঘিমাসিদ্ধ সাধু” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মহান গুরু প্রায়ই এখানে এসে ভাদুড়ি মহাশয়ের দর্শনলাভ করতেন এবং তাঁর সঙ্গে গভীর আধ্যাত্মিক আলোচনা ও সাধনাসংক্রান্ত কথোপকথনে অংশ নিতেন।
কাছাকাছি দর্শনীয় আরেকটি আকর্ষণীয় স্থান হল যোগদা সৎসঙ্গ ধ্যানকেন্দ্র, গড়পার। যোগানন্দজির বাল্যবন্ধু তুলসীনারায়ণ বসুর বাড়ির সংলগ্ন এই ধ্যানকেন্দ্র অবস্থিত। শৈশব ও কৈশোরে মহান গুরু তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে এই স্থানেই ধ্যান করতেন এবং আধ্যাত্মিক সাধনায় সময় কাটাতেন।
শ্রীযুক্তেশ্বরজির আশ্রম ও শ্রীরামপুরের অন্যান্য স্মৃতিধন্য স্থান
পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় অবস্থিত শ্রীরামপুর পরমহংস যোগানন্দজি এবং তাঁর পরম শ্রদ্ধেয় গুরু স্বামী শ্রীযুক্তেশ্বরজির জীবন ও সাধনার সঙ্গে যুক্ত বহু পবিত্র ও স্মৃতিধন্য স্থানের জন্য বিশেষভাবে মহিমান্বিত।
কলেজে পড়ার সময় আধ্যাত্মিক শিক্ষালাভের জন্য পরমহংস যোগানন্দজি অধিকাংশ সময় এখানেই, শ্রীরামপুরে,তাঁর গুরুদেবের আশ্রমে অতিবাহিত করতেন। শ্রীযুক্তেশ্বরজির পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আশ্রম প্রাঙ্গণেই একটি স্মৃতি মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। আশ্রমের কাছেই যোগানন্দজির কাকা শ্রী সারদা প্রসাদ ঘোষের বাড়ি। কিছুদিন যোগানন্দজি এই বাড়িতেও অবস্থান করেছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁর খুড়তুতো ভাই শ্রী প্রভাসচন্দ্র ঘোষ, যোগানন্দজি যে ঘরে থাকতেন, সেই ঘরটিকে একটি পবিত্র উপাসনাস্থলে রূপান্তরিত করেন এবং এর নাম দেন আনন্দলোক—অর্থাৎ “আনন্দের আবাস”।
শ্রীরামপুরের রায়ঘাট লেনের গঙ্গাতীরে আজও দাঁড়িয়ে আছে সেই বিশাল বটবৃক্ষ—নীরব এক সাক্ষী, যেখানে চিরজীবী মহাবতার বাবাজি ও স্বামী শ্রীযুক্তেশ্বরজির এক ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ ঘটেছিল। মহাবতার বাবাজির নির্দেশে শ্রীযুক্তেশ্বরজি যখন তাঁর অমর গ্রন্থ দ্য হোলি সায়েন্স রচনা সম্পূর্ণ করেন, তখন এই পবিত্র স্থানেই তাঁদের সেই মহামিলন ঘটেছিল। সেই দিব্য সাক্ষাতের স্মৃতি বহন করে আজও বটবৃক্ষটি গঙ্গার তীরে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে।
রায়ঘাট লেন থেকে মাত্র কয়েকশো মিটার দূরেই রয়েছে সেই স্থানটি, যেখানে একসময় ছিল পন্থী ছাত্রাবাস—কলেজজীবনে পরমহংস যোগানন্দজি এখানেই বাস করতেন। পুরোনো ভবনটি দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় স্থানীয় পুরসভা সেটি ইতিমধ্যেই ভেঙে দিয়েছে।
এর কাছেই রয়েছে শ্রীরামপুর কলেজ। যোগানন্দজি ছিলেন এই কলেজের ব্যাচেলর অব আর্টস কোর্সে প্রথমদিকে যারা ভরতি হয়েছিল, সেই ছাত্রদের মধ্যে একজন। এখান থেকেই তিনি এ. বি. (A.B.) ডিগ্রি লাভ করেন।

(যোগানন্দজির পরম শ্রদ্ধেয় গুরুদেব)


(ওয়াইএসএস-এর গুরু-পরম্পরার পরম গুরু)


দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির
ওয়াইএসএস-এর দক্ষিণেশ্বর আশ্রম থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির। নয়-চূড়াবিশিষ্ট এই মন্দিরের জন্য দক্ষিণেশ্বর বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। এখানে দেবী কালী ভবতারিণী রূপে পূজিতা অর্থাৎ যিনি তাঁর ভক্তদের সংসারসাগর পার করে পরম গন্তব্যে পৌঁছে দেন। শায়িত শিবের বক্ষের উপর অধিষ্ঠিতা দেবীমাতার মনোহর বিগ্রহ এখানে বিরাজমান। অত্যন্ত যত্ন ও নিপুণ কারুকার্যে নির্মিত সহস্রদল রৌপ্যপদ্মের উপর দেবীমাতা ও ভগবান শিবের এই সুন্দর বিগ্রহ শোভা পাচ্ছে।
তাঁর আত্মজীবনীতে যোগানন্দজি এই মন্দিরে তাঁর বহু তীর্থযাত্রার কথা উল্লেখ করেছেন। একবার তাঁর বোন রমা ও তাঁর স্বামী সতীশের সঙ্গে মন্দিরে যাওয়ার সময়, এই মন্দির-প্রাঙ্গণেই তিনি এক পরম আনন্দময়, দিব্য দর্শন লাভ করেন। সতীশ ছিলেন ঈশ্বরবিশ্বাসহীন; কিন্তু যোগানন্দজির ব্যাকুল হৃদয়ের প্রার্থনার ফলে, ভগবতী মায়ের কৃপায় তাঁর অন্তরে এমন এক গভীর পরিবর্তন আসে যে, তিনি পরবর্তীকালে নীরব সাধুর মতো জীবনযাপন করতে শুরু করেন। ঈশ্বরের করুণাময়ী মাতৃরূপের প্রতি পরমহংস যোগানন্দজির ছিল গভীর প্রেম ও আকর্ষণ। এই প্রেমই তাঁকে বারবার দক্ষিণেশ্বরের এই পবিত্র মন্দিরে আকর্ষণ করত। এখানে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধ্যানমগ্ন হয়ে থাকতেন—মন্দিরের বারান্দায়, শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের কক্ষে এবং পঞ্চবটির সেই বটগাছের নীচে, যেখানে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ঈশ্বরসাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন। মন্দির-প্রাঙ্গণের সেই পবিত্র কক্ষটি, যেখানে শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর জীবনের শেষ চৌদ্দ বছর অতিবাহিত করেছিলেন, সেটি আজও সংরক্ষিত রয়েছে একটি স্মৃতিমন্দির হিসাবে। ভক্তরা সেখানে বসে ধ্যান করতে পারেন এবং তাঁর ব্যবহৃত নানা সামগ্রীও দর্শন করতে পারেন।
গঙ্গার পবিত্র তীরে অবস্থিত এই মন্দিরটি সড়কপথ, রেলপথ, মেট্রো ও ফেরি—বিভিন্ন ধরনের যাতায়াত ব্যবস্থার মাধ্যমে কলকাতা শহরের সঙ্গে সুসংযুক্ত। মন্দিরের শান্ত ও পবিত্র পারিপার্শ্বিক অবস্থা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য এক অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে, যেখানে তাঁরা গভীর ধ্যানে নিমগ্ন হতে এবং বিশ্বজননী পরমেশ্বরীর সঙ্গে অন্তরের যোগ স্থাপন করতে পারেন।
নিকটবর্তী ওয়াইএসএস ধ্যানকেন্দ্র
নীচে ওয়াইএসএস দক্ষিণেশ্বর আশ্রমের আশেপাশে অবস্থিত তিনটি ধ্যানকেন্দ্রের নাম দেওয়া হল:
- গড়পার ধ্যানকেন্দ্র
- শ্রীরামপুর ধ্যানকেন্দ্র (ধ্যানকেন্দ্র ও নিভৃতাবাস কেন্দ্র)
- তেলারি ধ্যানকেন্দ্র (ধ্যানকেন্দ্র ও নিভৃতাবাস কেন্দ্র)
কোনো নির্দিষ্ট স্থানের অনুষ্ঠানসূচি, কীভাবে সেখানে পৌঁছোন যায় এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের জন্য অনুগ্রহ করে উপরে দেওয়া সংশ্লিষ্ট লিঙ্কে ক্লিক করুন।
সাপ্তাহিক কার্যক্রম
আমরা নিয়মিত ধ্যান ও সৎসঙ্গ প্রদান করি যা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। নীরব ধ্যান, ভক্তিগীতি এবং অনুপ্রেরণামূলক পাঠ পর্ব এইসব অধিবেশনের অন্তর্গত।
এইসমস্ত পর্বে ৬ থেকে ১২ বছরের শিশুরা ওয়াইএসএস-এর শিক্ষা এবং আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান যেমন গল্প বলা, সংক্ষিপ্ত পরিচালিত ধ্যান এবং অন্যান্য আদানপ্রদানমূলক শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে জীবনযাত্রা-প্রণালী শেখে। আরও জানুন।
ওয়াইএসএস সাধনা সঙ্গম
যোগদা সৎসঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পাঁচ দিনের কর্মসূচি, যেটি ছাত্রদের পরমহংস যোগানন্দজির শিক্ষায় গভীরভাবে নিমগ্ন হওয়ার এক অনন্য সুযোগ দেয় । এই কর্মসূচিতে ওয়াইএসএস-এর ধ্যান প্রক্রিয়ার ক্লাস, সমবেত ধ্যান, কীর্তন পর্ব এবং সন্ন্যাসীদের অনুপ্রেরণামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকটি অনুষ্ঠানে ক্রিয়াযোগ দীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকে।
কর্মসূচি-সংক্রান্ত ঘোষণা ও সর্বশেষ তথ্য পাওয়ার জন্য ওয়াইএসএস-এর ই-নিউজে নিবন্ধন করুন।
আগামি বিশিষ্ট ঘটনাবলি এবং দীর্ঘকালীন ধ্যান
সংবাদ - চিত্রাদি প্রদর্শন কক্ষ
আশ্রম সফরের পরিকল্পনা করুন
দিনের বেলায় আশ্রমে আসতে চান?
আশ্রমের সমবেত ধ্যানে অংশ নিতে, আশ্রমের শান্ত ও মনোরম উদ্যানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে অথবা দক্ষিণেশ্বরের আশপাশে পরমহংস যোগানন্দজির জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত পবিত্র স্থানগুলিতে তীর্থদর্শনে যেতে আমরা আপনাকে সাদর আমন্ত্রণ জানাই। আপনি যদি একজন অভিজ্ঞ গাইডের সঙ্গে আশ্রমটি ঘুরে দেখতে চান অথবা মহান গুরু পরমহংস যোগানন্দজির জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত দর্শনীয় স্থানগুলি পরিদর্শন করতে আগ্রহী হন, তাহলে অনুগ্রহ করে সময় নির্ধারণের জন্য অভ্যর্থনা-কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
সময়সূচি:
- আশ্রম প্রাঙ্গণ — প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সকল দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত
- অভ্যর্থনা-কেন্দ্র ও গ্রন্থ কক্ষ:
- সোমবার থেকে শনিবার – সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত
- রবিবার – সকাল ১০.৩০ থেকে বিকেল ৪.০০ পর্যন্ত
আশ্রমে ব্যক্তিগতভাবে নিভৃতাবাসের পরিকল্পনা করুন অথবা পরিচালিত নিভৃতাবাসে যোগ দিন।
ওয়াইএসএস ও এসআরএফ পাঠমালার শিক্ষার্থীদের আশ্রমে সর্বোচ্চ পাঁচ দিন পর্যন্ত থাকার জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমরা ভক্তদের ব্যক্তিগতভাবে নিভৃতাবাসে অথবা আমাদের পরিচালিত নিভৃতাবাসের কার্যক্রমগুলির কোনো একটিতে যোগ দিতে উৎসাহিত করি যাতে তাঁরা নিজেদের অন্তরকে নতুন উদ্যমে পূর্ণ করে সতেজ ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারেন। এই নিভৃতাবাসের সময় দিনে দুবার ওয়াইএসএস সন্ন্যাসীদের পরিচালনায় সমবেত ধ্যানে অংশ নেওয়ার, ওয়াইএসএস -এর ধ্যানপ্রক্রিয়ার পর্যালোচনার ক্লাসে যোগ দেওয়ার এবং যোগদা সৎসঙ্গ শিক্ষার অধ্যয়ন ও অনুশীলনের বিষয়ে আধ্যাত্মিক পরামর্শ ও নির্দেশনা লাভের সুযোগ থাকে। সেইসঙ্গে, শান্ত ও মনোরম আশ্রম-প্রাঙ্গণের প্রাকৃতিক পরিবেশও উপভোগ করা যায়। জীবনের নানা দুশ্চিন্তা ও জাগতিক ব্যস্ততা কিছু সময়ের জন্য পাশে সরিয়ে রেখে শরীর, মন ও আত্মাকে শান্তি ও প্রশান্তিতে পূর্ণ করে তোলার এক অপূর্ব সুযোগ এনে দেয় এই নিভৃতাবাস।
















